
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে ধানবীজ ও চারা বিতরণ এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগের (এফএমডি) টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে গোখাদ্য সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশব্যাপী প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও খামারিদের মাঝে ধানবীজ, কৃষি উপকরণ ও গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার আগে কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করলেও দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধানবীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, তাদের হাতে দ্রুত ধানবীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব জমি এখনও পানির নিচে থাকায় বীজ বোনা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াকৃত জমিতে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত চারা ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বন্যার পর খুরা রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শুক্রবার থেকেই বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পিপিআর রোগের বিরুদ্ধেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আরও জানান, বন্যায় সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও সহায়তা বাড়ানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার কারণে মৎস্য খাতে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে জরিপ চলছে। জরিপ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে। উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি এসব সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে, যাতে কৃষক অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ছাড়াই ফসল সংরক্ষণ করে বাজারে ভালো দাম পেলে বিক্রি করতে পারেন।
বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এর আগে মন্ত্রী নিজ হাতে বীজতলায় ধানবীজ বপন করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানবীজ, মৎস্যচাষীদের মধ্যে পুকুর পুনর্বাসন উপকরণ, খামারিদের মাঝে গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে এফএমডি ও পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের আগে তিনি চট্টগ্রাম জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।



