
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সুগন্ধি পোলাও চালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমার ফোরাম (সিএফ)। সংগঠনটির অভিযোগ, গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর সমন্বিত কারসাজির কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যার পুরো চাপ বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সুগন্ধি পোলাও চালের রপ্তানি অবিলম্বে বন্ধসহ কার্যকর সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কনজুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও যে পোলাও চালের পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ১৫৭ টাকা, বর্তমানে একই চাল কোম্পানিগুলো বিক্রি করছে ১৯৫ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে প্রায় ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
খুচরা বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঈদুল আজহার সময় প্রতি কেজি পোলাও চাল বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও যার দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিগুলো প্যাকেটজাত পোলাও চাল খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রতি কেজি ২১২ টাকা নির্ধারণ করে সরবরাহ করছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফায় খুচরা বাজারে মোট মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, দেশের পোলাও চালের বাজার কার্যত সীমিতসংখ্যক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে। এসব ব্যবসায়ী সমন্বিতভাবে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। বর্তমানে খোলা পোলাও চালের দামও মানভেদে প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
কনজুমার ফোরামের ভাষ্য, প্রায় এক বছর ধরেই পোলাও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছে, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দেশে উৎপাদিত পোলাও চাল দিয়ে স্থানীয় চাহিদাই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যেই রপ্তানির সুযোগ থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।
সংগঠনটি আরও বলেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পোলাও চাল ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় কনজুমার ফোরাম ভোক্তাদের স্বার্থে সুগন্ধি পোলাও চালের রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ, বাজারে কঠোর নজরদারি জোরদার, মূল্য কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি বাজার পরিস্থিতি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে পোলাও চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে কনজুমার ফোরাম।



