
বিশেষ সংবাদদাতা: প্রোটিন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য প্রোটিনের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব প্রোটিন দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল-এ এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় দেশের খ্যাতিমান পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাদ্যের বিকল্প নেই। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ—তাই শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বিপিআইসিসি’র ট্রেজারার সিরাজুল হক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রোটিন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য অনেক প্রোটিন উৎসের তুলনায় পোল্ট্রি থেকে উৎপাদিত প্রোটিন তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য। এ ধরনের আয়োজনে ইউএসএসইসি’র সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
ইউএসএসইসি’র বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। পুষ্টি সূচকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যচিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, প্রোটিন অধিকার নিশ্চিত করতে ইউএসএসইসি বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনা সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ডিম ও মুরগি নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা। এভারকেয়ার হাসপাতাল-এর প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবারগুলো এখনও অতিরিক্তভাবে ভাতনির্ভর। অথচ প্রতিদিনের সুষম খাদ্য তালিকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য প্রোটিন উৎস থাকা জরুরি—হোক তা ডিম, মাছ বা মাংস। তিনি বলেন, ডিম নিয়ে হৃদরোগ বা কোলেস্টরল সংক্রান্ত যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; বরং ডিমে থাকা কোলেস্টরল শরীরের জন্য উপকারী।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. এ. জেড. এম. আহসান উল্লাহ বলেন, প্রোটিনের ঘাটতি নীরবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খর্বাকৃতি, রক্তশূন্যতা ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অপুষ্টির প্রধান লক্ষণ। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) ঢাকার সুপারিনটেনডেন্ট মো. ওমর আলী বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষকরাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন শিক্ষার্থী স্কুলে প্রোটিনের গুরুত্ব শিখলে তা পরিবারেও ছড়িয়ে দিতে পারে—এভাবেই টেকসই পরিবর্তন সম্ভব।
এছাড়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মসজিদে শুক্রবারের খুতবায় সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা সংযোজনের মাধ্যমে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রোটিন সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য একটি পুষ্টি আন্দোলন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও পরিবারকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অপুষ্টি দূর করা সম্ভব হবে এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়াপসা-বিবি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক।
হেডলাইন অনুযায়ী রিপোর্টটিকে শুরু করে সাজাও
ডিম ও মুরগি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ভাঙার আহ্বান পুষ্টিবিদদের
এগ্রিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:
ডিম ও মুরগি নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা পরিহার করে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক পুষ্টি সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের খ্যাতিমান পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, ডিম ও পোল্ট্রি প্রোটিন স্বাস্থ্যসম্মত, সাশ্রয়ী এবং শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের জন্য অপরিহার্য।
বিশ্ব প্রোটিন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল-এ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সভায় পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সুস্থ-সবলভাবে বেড়ে ওঠা ও কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ—তাই শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রোটিন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বিপিআইসিসি’র ট্রেজারার সিরাজুল হক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রোটিন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, অন্যান্য অনেক প্রোটিন উৎসের তুলনায় পোল্ট্রি থেকে উৎপাদিত প্রোটিন তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য। এ ধরনের উদ্যোগে ইউএসএসইসি’র সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
ইউএসএসইসি’র বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। পুষ্টি সূচকের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতায় বড় পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, প্রোটিন অধিকার নিশ্চিত করতে ইউএসএসইসি বিশ্বজুড়ে কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনা সভায় ডিম ও মুরগি নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এভারকেয়ার হাসপাতাল-এর প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবারগুলো এখনও ভাতনির্ভর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। অথচ প্রতিদিনের সুষম খাদ্য তালিকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য প্রোটিন উৎস থাকা জরুরি—হোক তা ডিম, মাছ বা মাংস। তিনি বলেন, ডিম খেলে হার্টের রোগ হয়—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ডিমে থাকা কোলেস্টরল বরং শরীরের জন্য উপকারী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. এ. জেড. এম. আহসান উল্লাহ বলেন, প্রোটিনের ঘাটতি নীরবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খর্বাকৃতি, রক্তশূন্যতা এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অপুষ্টির প্রধান লক্ষণ। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) ঢাকার সুপারিনটেনডেন্ট মো. ওমর আলী বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষকরা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। স্কুলে প্রোটিনের গুরুত্ব শেখানো গেলে তা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে।
এছাড়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবারের খুতবায় সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা যুক্ত করলে প্রোটিন সচেতনতা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
বক্তারা একমত হয়ে বলেন, এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য একটি পুষ্টি আন্দোলন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অপুষ্টি দূর করা সম্ভব হবে এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়াপসা-বিবি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক।



