
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : “পুরো চট্টগ্রাম নগরী ভেজাল খাবারের স্বর্গরাজ্যে পরিণত—এমন উদ্বেগজনক মন্তব্য উঠে এসেছে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে। বক্তারা বলেন, ভেজাল ও অসাধু ব্যবসায়িক চর্চার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি নীতি-নৈতিকতা মেনে ব্যবসা না করেন এবং ভোক্তারা প্রতারিত হলেও প্রতিবাদী না হন, তাহলে ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, নগরকে গ্রিন, হেলদি ও টেকসই করতে কাজ চললেও যত্রতত্র দোকান বসানো ও নালা-নর্দমায় ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ ভেজাল খাবার খেয়ে অসুস্থ হলেও অনেক সময় নীরব থাকে। ফলে পুরো নগরী ভেজাল খাদ্যের ঝুঁকিতে ডুবে যাচ্ছে। ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’-কে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দেন।
০৪ মে ২০২৬ (সোমবার) প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দামপাড়া কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯: ছাত্র ও তরুণদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম, যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ।
মেয়র আরও বলেন, অতিমুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ভেজাল মেশানোর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নৈতিকতা শিক্ষা জোরদার এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, একটি সুস্থ সমাজ গঠনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অপরিহার্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞানার্জনের স্থান নয়, সচেতন নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রও বটে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোসাইন সিকদার বলেন, বাজারে স্বচ্ছতা আনতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সচেতন ভোক্তা নিজে প্রতারিত হন না, বরং অন্যদেরও সচেতন করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, আইনের মূল লক্ষ্য ভোক্তাদের প্রতারণা ও ভেজাল থেকে সুরক্ষা দেওয়া, তবে বাস্তবায়নে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষকরা বলেন, ভোক্তা অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি এবং শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. নাজের হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের ভোক্তারা এখনও অসংগঠিত ও দুর্বল। আইন থাকলেও প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। তিনি তরুণদের ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সেমিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকসহ দুই শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।



