Thursday 30th of May 2024
Home / ফসল / লালচে-বেগুনি  ও গোল্ডেন শরিফার বাণিজ্যিক চাষে নতুন সম্ভাবনা

লালচে-বেগুনি  ও গোল্ডেন শরিফার বাণিজ্যিক চাষে নতুন সম্ভাবনা

Published at আগস্ট ২৯, ২০২২

. মো. শামছুল আলম : শরিফার ইংরেজি নাম Custard Apple (Annona squamosa L).কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের অনেক আগেই পর্তুগীজরা এ উপমহাদেশে শরিফা ও আতা নিয়ে আসেন। সেই থেকে প্রথম বনে জঙ্গলে, পরে বসত বাড়ির আঙিনায় এবং শেষে বাগান আকারে চাষ করা হচ্ছে। শুধু এ উপমহাদেশেই নয়, শরিফা  এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে আমেরিকার ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া, থাইল্যান্ড, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে। শরিফা গাছ ছোট আকারের বৃক্ষ, উচ্চতায় ৩ থেকে ৫ মিটার। শীতকালে পাতা ঝরে যায়। বসন্তে নতুন পাতা ও ফুল আসে।পাতা বল্লমাকার, অগ্রভাগ সরু। ফুল দেখতে অনেকটা কাঁঠালি চাঁপার মতো। সেরকম হালকা মিষ্টি সুগন্ধও আছে। ফুলের রং হালকা সবুজ থেকে সবুজাভ হলুদ। তিনটি পাপড়ি থাকে। ফল প্রায় গোলাকার ও ফলের উপরিভাগে গোলাকার উত্থিত খন্ডে বিভক্ত বা গায়ে গুটি গুটি চোখ খুব স্পষ্ট। প্রতিটি খন্ড এক একটি ফলের অবস্থান অবস্থান নির্দেশ করে। কাঁচা ফল খাওয়া যায় না।

শরিফা ফলে প্রচুর ভিটামিন ও শর্করা রয়েছে। পাকা ফলের মধ্যে লটকনের মতো বীজযুক্ত বা বীজ ছাড়া চেম্বার থাকে। পাকা ফলের শাঁস মিষ্টি ও খাওয়ার সময় চিনির মতো মিহি দানার মতো লাগে। পাকা ফলের শাঁস বলকারক, বাত নিবারক, বাত পিত্তনাশক। শিকড়ের রস রক্ত আমাশয় সারাতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্যানত্ত্ব বিভাগে শরিফা নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর যাবত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখানে ৯ রকমের শরিফা সংগ্রহ করা হয়েছিল ভারত , অফ্রিকা, সুদান, ফ্লোরিডা, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। দীর্ঘদিনের গবেষণায় দেখা যায় যে-

লালচে –বেগুনি  শরিফা
শরিফার এ  জাতটিকে ভারতের উত্তরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এ  জাতটিতে  জুন মাসে ফুল আসে এবং আগস্ট মাসে ফল পরিপক্ক হয়। ফলের ওজন ২০০-৩৫০গ্রাম, ফলে বীজের সংখ্যা ১৫-২৫টি। মিষ্টতা ২২-২৫%(% ব্রিক্স)। দুই বছরের একটি গাছে ৫৯টি শরিফা সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ওজন ৭কেজি। ময়মনসিংহের বাজারে এই শরিফা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । পাইকারি ক্রেতারা ২০০-২৫০ টাকা কেজি হিসাবে কিনতে চায়। সেই হিসাবে একটি গাছ থেকে ৭ কেজি x ২০০ টাকা = ১৪০০  টাকার শরিফা বিক্রয় করা সম্ভব।

গোল্ডেন শরিফা
শরিফার এ  জাতটিকে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই  থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।  শরিফার এ জাতটিতে  জুন মাসে ফুল আসে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর  মাসে ফল পরিপক্ক হয়। ফলের ওজন ৪০০-৫৩৮  গ্রাম, ফলে বীজের সংখ্যা ১৬-২২টি। মিষ্টতা ২১-২৪%(% ব্রিক্স)। দুই বছরের একটি গাছে  ৯টি শরিফা সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ওজন প্রায় ৪ কেজি। ময়মনসিংহের বাজারে এই শরিফা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পাইকারি ক্রেতারা ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি হিসাবে কিনতে চায়। সেই হিসাবে একটি গাছ থেকে ৪ কেজি x ৩০০ টাকা = ১২০০  টাকার শরিফা বিক্রয় করা সম্ভব।

এছাড়া আরো অনেকগুলো জার্মপ্লাজম সংগ্রহে রয়েছে যা এখনও গবেষণার আওতাধীন রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু জাত কৃষকের দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য গবেষকরা নিবিড়ভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

লেখক: ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, বিনা, বাকৃবি চত্বর, ময়মনসিংহ২২০২  

This post has already been read 1837 times!