
বাকৃবি সংবাদদাতা: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘বাংলাদেশে সামুদ্রিক ভূ-দুর্যোগ ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামুদ্রিক ভূ-দুর্যোগ, উপকূলীয় ঝুঁকি এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে এ কর্মশালার যৌথ আয়োজন করে বাকৃবি এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি।
বুধবার (১০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির অধ্যাপক ড. জিন শান, অধ্যাপক ড. ইয়ংগুই ইউ এবং বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান । কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির অধ্যাপক ড. জিন শান বলেন, বাংলাদেশ নদী ও প্লাবনভূমিনির্ভর দেশ হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এখানে তুলনামূলক বেশি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিবছর দেশের জনজীবন ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদীর প্রবাহ এবং সমতল ভূমির গঠন হিমালয় সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত টেকটোনিক প্লেটের দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনের ফল।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও স্থানচ্যুতির কারণেই ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ভূ-তাত্ত্বিক ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি সমুদ্রতলের ভূমিধস ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সুনামির মতো দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। তিনি এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা খুবই সীমিত। চীন বাংলাদেশের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। খুব কম মানুষই আমাদের দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করে। আমি তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। দুই দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা চাই চীন ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করুক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র উন্মোচিত হোক।
অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মশালা গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



