
সিলেট সংবাদদাতা: বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন,পণ্যের চাহিদার পরিমাণ উৎপাদনকারীরা না জানায় একদিকে যেমন সমস্যা, ঠিক তেমনি ভোক্তাও সঠিক দামে পণ্য কিনতে পারছেন না।
আসলে কৃষির মূল সমস্যা পরিকল্পনাতেই-এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কৃষককে বাঁচাতে কয়েক হাজার মিনি কোল্ডস্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এতে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে। বাজেটের অপচয় না হলে যে বাজেট বরাদ্দ হয় তা দিয়েও কৃষির উন্নয়ন সম্ভব বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,পশুর ভ্যাকসিন আমদানিতে নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন করা হবে। এছাড়াও পোল্ট্রিতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কোনোভাবেই করতে দেয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে কৃষিতে-এ কথা জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার এবং আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে কাজ করছে বর্তমান সরকার-এ কথা জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, কৃষির রুপান্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের নানামুখী সংকট উত্তরণেও কাজ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি মো. আহসানুজ্জামান লিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাণী রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অণুজীব বিজ্ঞানী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস- চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন আমদানি করা হয়। অথচ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সময়োপযোগী উদ্যোগ নিলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ভ্যাকসিনের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি ইতিমধ্যে নিজ উদ্যোগে ১২টি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও বেসরকারি কোম্পানির সহযোগিতায় বাজারজাতকরণের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন উৎপাদন করলে দেশের স্বার্থে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন । সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর প্রফেসর ড. গোলাম হাফিজ কেনেডি এবং প্রফেসর ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান।



