
নিজস্ব প্রতিবেদক : “Aquatic Veterinary Medicine” কোর্স প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক স্মারক জারিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত গত ওই বিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক নম্বর:০৪.০০০০.১০৪.৩৪.৫৮) দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রণীত কারিকুলামে জলজ প্রাণীস্বাস্থ্য বিষয়ক কোর্স অন্তর্ভুক্তির হার জরুরি ভিত্তিতে জানাতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন-২০১৯ অনুযায়ী “প্রাণী” বলতে মানুষ ব্যতীত সকল প্রাণীকে বোঝায়। একইসঙ্গে বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH)-এর Aquatic Animal Health Code অনুসারে মাছসহ সব ধরনের প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ভেটেরিনারি প্র্যাকটিশনারদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে BVC Standard for Veterinary Education ২০১৯ অনুসরণ করে “Aquatic Veterinary Medicine” সংক্রান্ত চারটি কোর্স অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েট সমাজ। এক বিবৃতিতে তারা এই প্রস্তাবনাকে “অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, মৎস্য খাতের শিক্ষা, গবেষণা, উৎপাদন, রোগব্যবস্থাপনা, হ্যাচারি প্রযুক্তি ও জলজ পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটরাই দেশের স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও ব্যবহারিক দক্ষতাকে উপেক্ষা করে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জলজ প্রাণিসম্পদ খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও বিশেষায়িত শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা স্পষ্ট করেছে—ফিশারিজ সেক্টরকে অবমূল্যায়ন করে কোনো একক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না।
ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—উক্ত প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহার, জলজ খাত সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণে ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং মৎস্য খাতে পেশাগত স্বীকৃতি ও চাকরিক্ষেত্রে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সারাদেশের ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, “মাছের বিজ্ঞান মাছের মানুষের হাতেই নিরাপদ”—এই নীতিকে উপেক্ষা করে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত খাতটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যখাতের উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ভেটেরিনারি ও ফিশারিজ—উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বিত ও যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি।



