
টিক (Tick) হলো এক ধরনের রক্তচোষা বহিঃপরজীবী (ectoparasite), যা সাধারণত কুকুরের ত্বকে লেগে থেকে তাদের রক্ত শোষণ করে। উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে টিক দ্রুত বিস্তার লাভ করে, তাই উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোতে কুকুরে টিক সংক্রমণ খুবই সাধারণ একটি সমস্যা।
টিক শুধু কুকুরের ত্বকে লেগে রক্ত শোষণই করে না, বরং ত্বকের ক্ষতি, চুলকানি এবং রক্তক্ষরণ ঘটায়। অনেক সময় অতিরিক্ত টিক সংক্রমণের ফলে কুকুর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রক্তস্বল্পতা (anemia) দেখা দিতে পারে। সাধারণত কুকুরের কান, ঘাড়, বগল, কুঁচকি এবং আঙুলের ফাঁকের মতো নরম ও লোমযুক্ত জায়গায় টিক বেশি লেগে থাকে।
এছাড়াও টিক বিভিন্ন রোগজীবাণুর বাহক (vector) হিসেবে কাজ করে এবং কুকুরের শরীরে মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে। যেমন—Babesiosis, Ehrlichiosis ইত্যাদি রোগ টিকের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়, যা কুকুরের জন্য বেশ গুরুতর হতে পারে।
সাধারণভাবে টিক কুকুরে বেশি দেখা গেলেও মাঝে মাঝে বিড়ালেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর ত্বক নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং টিক নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিস্তৃতি (Distribution)
উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে টিক ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে Brown dog tick (Rhipicephalus sanguineus sensu lato) উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে কুকুরে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং মাঝে মাঝে বিড়ালেও সংক্রমণ ঘটায়।
এছাড়াও বিভিন্ন genus-এর অন্যান্য টিক যেমন Amblyomma, Dermacentor, Haemaphysalis, Hyalomma, Ixodes এবং Ornithodoros প্রজাতির টিক বিভিন্ন দেশে কুকুর, বিড়াল বা উভয়ের শরীরে পাওয়া যেতে পারে।
কিছু উল্লেখযোগ্য প্রজাতি:
- Amblyomma aureolatum
- Amblyomma oblongoguttatum
- Amblyomma ovale
- Amblyomma sculptum
- Amblyomma tigrinum
Neotropical অঞ্চলে:
- Ixodes boliviensis
- Ornithodoros brasiliensis
আফ্রিকা অঞ্চলে:
- Haemaphysalis elliptica
- Rhipicephalus pulchellus
- Rhipicephalus armatus
- Amblyomma gemma
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে:
- Rhipicephalus haemaphysaloides
- Haemaphysalis longicornis

জীবনচক্র (Life Cycle)
কুকুর ও বিড়ালে সংক্রমণকারী অধিকাংশ টিকের তিন-হোস্ট বিশিষ্ট জীবনচক্র থাকে। অর্থাৎ larva, nymph এবং adult প্রতিটি ধাপ ভিন্ন ভিন্ন হোস্টে রক্ত খেয়ে বৃদ্ধি পায়।
জীবনচক্রের সময়কাল (ডিম থেকে adult হওয়া পর্যন্ত) প্রজাতি ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে Brown dog tick বছরে একাধিক প্রজন্ম উৎপন্ন করতে পারে।
- Larva (৬ পা) ও nymph (৮ পা) সাধারণত কয়েকদিন রক্ত খায়
- Female tick সাধারণত বেশি সময় ধরে রক্ত খায়
Hard ticks (Ixodidae):
- একবার রক্ত খেয়ে একটি বড় batch ডিম দেয়
Soft ticks (Argasidae):
- একাধিকবার রক্ত খায় এবং একাধিকবার ডিম দেয়
ক্লিনিক্যাল লক্ষণ (Clinical Signs)
যদি কুকুর বা বিড়ালের শরীরে ১–২টি টিক থাকে, অনেক সময় তা সহজে চোখে পড়ে না। তবে সংক্রমণ বেশি হলে দেখা যায়:
- ত্বকে ক্ষত (skin lesions)
- চুলকানি (pruritus)
- ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি
অতিরিক্ত সংক্রমণে:
- রক্তস্বল্পতা (anemia)
- দুর্বলতা
কিছু ক্ষেত্রে tick toxicosis হতে পারে (বিশেষ করে Ornithodoros brasiliensis এর কারণে), যার লক্ষণ:
- ত্বকে rash
- তীব্র চুলকানি
- mucosal hyperaemia
- lethargy
- জ্বর (fever)
- পক্ষাঘাত (paralysis)
টিক-বাহিত রোগ (Tick-borne Diseases)
রক্ত খাওয়ার সময় সংক্রমণ:
- Babesia vogeli
- Cercopithifilaria spp.
- Cytauxzoon felis
- Ehrlichia canis
- Rangelia vitalii
- Rickettsia rickettsii
টিক খেয়ে ফেললে:
- Hepatozoon spp.
রোগ নির্ণয় (Diagnosis)
Visual inspection এর মাধ্যমে সাধারণত টিক শনাক্ত করা যায়। সাধারণত যেসব স্থানে বেশি থাকে:
- কান (ears)
- বগল (armpits)
- কুঁচকি (inguinal region)
- চোখের চারপাশ (periocular area)
- আঙুলের ফাঁক (interdigital area)
সংগ্রহ করা টিক:
- জীবিত রাখা যায়
- অথবা 70% ethanol-এ সংরক্ষণ করে পরে পরীক্ষা করা যায়
চিকিৎসা (Treatment)
- দৃশ্যমান টিক দ্রুত অপসারণ করতে হবে
- কম সংক্রমণে tweezers দিয়ে সরানো যায়
- বেশি সংক্রমণে systemic acaricides ব্যবহার করা হয়
ব্যবহৃত পদ্ধতি:
- Spot-on pipettes
- Tick collar
- Oral tablets
⚠️ সতর্কতা:
Synthetic pyrethroids এবং amidines (বিশেষ করে বিড়ালের ক্ষেত্রে) বিষাক্ত হতে পারে
প্রতিরোধ (Prevention)
- বাইরে যাওয়া কুকুর বেশি ঝুঁকিতে থাকে
- ঘরের কুকুরও সংক্রমিত হতে পারে
ঝুঁকির স্থান:
- ঘাস, মাটি, ঝোপঝাড়
- পার্ক
- grooming center
প্রতিরোধের উপায়:
- নিয়মিত repellent ব্যবহার
- label অনুযায়ী product ব্যবহার
- নির্দিষ্ট সময় পর পুনরায় প্রয়োগ
ডা: এ.এস.এম. রেজোয়ান
DVM, MS (RABI), PGT
Product Executive
Agrovet Division
Square Pharmaceuticals PLC



