
এগ্রিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : বাংলাদেশের পোলট্রি ও পাট শিল্পের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম, আশি ও নব্বইয়ের দশকের শিল্প উদ্যোক্তা ও পথিকৃৎ প্রকৌশলী ইকবাল হায়দার আর নেই। আজ ভোর ৩টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্পাঙ্গন, বিশেষ করে পোলট্রি ও জুট সেক্টরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
প্রকৌশলী ইকবাল হায়দার ছিলেন উষা পোলট্রি, উষা ফিড, যশোর ফিড, উষা জুট স্পিনার্স এবং আশা জুট স্পিনার্স – এর প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প যখন প্রাথমিক বিকাশের পর্যায়ে, তখন তিনি আধুনিক ফিড উৎপাদন, খামার ব্যবস্থাপনা ও শিল্পভিত্তিক চিন্তার মাধ্যমে এই খাতে টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে পাট শিল্পের যান্ত্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার অবদান আজও শিল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুকরণীয়।
শিল্প উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক অভিভাবক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ক্যাপ্টেন এন. এস. হায়দার–এর কন্যা মিসেস সাইরা ইসলাম–এর একমাত্র অভিভাবক (চাচা) হিসেবে তিনি আজীবন দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, শহীদ ক্যাপ্টেন এন. এস. হায়দার ছিলেন তৎকালীন পিআইএ–বিমান (বর্তমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স)–এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পারিবারিকভাবে প্রয়াত ইকবাল হায়দার ছিলেন দেশের পোলট্রি ও ফিডমিল সেক্টরের অন্যতম স্বনামধন্য কোম্পানি এক্সোন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম -এর চাচা শ্বশুর।
দূরদর্শিতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধে তিনি ছিলেন অনন্য। তার প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, গড়ে উঠেছে দক্ষ জনশক্তি। সহকর্মী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার নাম।
আজ জোহরের নামাজের পর ঢাকার গুলশান সোসাইটি মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
প্রকৌশলী ইকবাল হায়দারের ইন্তেকালে দেশের পোলট্রি ও পাট শিল্পের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।



