
বাংলাদেশের প্রাণিস্বাস্থ্য ও পোল্ট্রি খাত আজ একজন নিবেদিতপ্রাণ, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় পেশাজীবীকে হারালো। অকালেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আফরোজা আক্তার—যিনি ছিলেন একজন দক্ষ ফার্মাসিস্ট এবং প্রাণিস্বাস্থ্য খাতের একজন উদীয়মান নেতৃত্ব।
আফরোজা আক্তারের জন্ম ১৯৮৯ সালে। তিনি চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মেসিতে অনার্স এবং পরবর্তীতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
পেশাগত জীবন
২০১৬ সালে তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অ্যানিম্যাল হেলথ ডিভিশনে প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তীক্ষ্ণ জ্ঞান, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ধারাবাহিকতায় তিনি সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
২০২৩ সালে তিনি জিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর এগ্রোভেট ডিভিশনে সিনিয়র প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করেন। জিয়ারে যোগদানের পর খুব দ্রুতই তিনি তার দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেন। বিশেষ করে পোল্ট্রি পোর্টফোলিও পরিচালনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় ও সফল, যেখানে তিনি টিম লিড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার ধারাবাহিক অবদান ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে তিনি গ্রুপ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন—যা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছিল।
ব্যক্তিগত জীবন
ব্যক্তিগত জীবনে আফরোজা আক্তার ছিলেন একজন স্নেহাশীলা স্ত্রী ও মমতাময়ী মা। তার স্বামী কাজী ফজলে রাব্বি রিজভি-ও একজন ফার্মাসিস্ট ছিলেন এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের সাপ্লাই চেইন বিভাগে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের দুই পুত্র—রাফসান ও রিশান—ছিল তাদের জীবনের আলো।
মর্মান্তিক বিদায়
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, এক আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আফরোজা আক্তার (৩৭), তার স্বামী রিজভি (৩৮) এবং তাদের কনিষ্ঠ পুত্র রিশান (২) ইন্তেকাল করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, বরং পুরো ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রাণিস্বাস্থ্য খাতকে শোকের সাগরে ভাসিয়েছে।
আফরোজা আক্তার ছিলেন পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিক গুণাবলির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার অকাল প্রস্থান আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার কর্ম, নিষ্ঠা ও স্মৃতি সহকর্মী ও সহযাত্রীদের মাঝে চিরদিন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আফরোজা আক্তার, তার স্বামী ও সন্তানের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাদের জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের সবর ও শক্তি দান করেন। আমিন। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি



