Sunday 16th of June 2024
Home / বিজ্ঞান ও গবেষণা / নতুন নতুন জাত ও খাদ্য করচ কমানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে – ড. নাহিদ রশীদ

নতুন নতুন জাত ও খাদ্য করচ কমানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে – ড. নাহিদ রশীদ

Published at ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩

সাভার সংবাদদাতা: গৎবাধাঁ কাজ না করে সাহস, সততা ও আত্মনিবেদন নিয়ে কাজ করতে হবে। আবেগতাড়িত না হয়ে যুক্তি দিয়ে কাজ করতে হবে। সমালোচনা না হলে শুদ্ধি আসে না। বিএলআরআই অতীতে কি কি কাজ করেছে তা আমরা জানি। কিন্তু বিএলআরআই ভবিষ্যতে কি করবে, ভবিষ্যৎ বিএলআরআইকে আমরা কোথায় দেখতে চাই তা এখনই পরিকল্পনা করতে হবে। দেশ যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে, নিজের প্রয়োজনীয় সকল কিছু যেনো দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হয় এমন পরিকল্পনা নিতে হবে এবং সে ধরনের গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে, খাদ্য করচ কমানো সম্ভব হয় এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে।

আজ শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৩’ এর অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ একথা বলেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব ড. নাহিদ রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত অতিরিক্ত সচিব জনাব এ.টি.এম. মোস্তফা কামাল এবং পরিকল্পনা কমিশনের বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উইং এর অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহাম্মাদ মফিজুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

ড. নাহিদ রশীদবলেন, সকল পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আজকের এই কর্মশালা সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞ সদস্যগণ যেসব মতামত প্রদান করবেন সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আরও অনেক বেশি স্টেকহোল্ডার নিয়ে কাজ করতে হবে। এমনভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে যেনো তা দেশের মানুষের কাজে লাগে। মাঠে সম্প্রসারণ করতে না পারলে গবেষণালব্ধ জ্ঞান মূল্যহীন হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বিএলআরআই সব সময় সকলের মতামত নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিএলআরআই বর্তমানে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এমন নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ করছে। খামারের খরচ কমানো, খাদ্য ব্যবস্থায় বিকল্প পুষ্টির উৎস খুঁজে বের করতে কাজ করে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা উদ্ভাবনের কাজ করছেন।

সকাল সাড়ে ৯ টায় পবিত্র কোরআন হতে তেলোয়াত এবং পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং কর্মশালার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন বিএলআরআই এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানা।

স্বাগত বক্তব্যের পরে বিএলআরআই কর্তৃক প্রকাশিত “প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন প্রযুক্তি নির্দেশিকা (চতুর্থ সংস্করণ)” শীর্ষক বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব ড. নাহিদ রশীদ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিগণ মোড়ক উন্মোচন করেন।

উক্ত আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বিএলআরআই-এর সাবেক মহাপরিচালকগণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ,  প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের খামারীগণ, বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ।

উদ্বাধনী অনুষ্ঠানের পরে শুরু হয় কারিগরি সেশন। এবারের কর্মশালায় পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত কারিগরি সেশনে সর্বমোট ৪৯ (উনপঞ্চাশ) টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বিএলআরআই সম্মেলন কক্ষ (চতুর্থ তলা) ভেন্যুতে “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস” শীর্ষক প্রথম সেশনে ১০ (দশ) টি প্রবন্ধ, প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষ (দ্বিতীয় তলা) ভেন্যুতে “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ” শীর্ষক দ্বিতীয় সেশনে ১০ (দশ) টি প্রবন্ধ, ছাগল উৎপাদন গবেষণা বিভাগের সম্মেলন কক্ষ (চতুর্থ তলা) ভেন্যুতে “সোশিওইকোনোমিকস অ্যান্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ” শীর্ষক তৃতীয় সেশনে ০৭ (সাত) টি প্রবন্ধ, ট্রেনিং ডরমিটরির সম্মেলন কক্ষ ভেন্যুতে “বায়োটেকনোলজি, এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক চতুর্থ সেশনে ১২ (বারো) টি প্রবন্ধ এবং পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের সম্মেলন কক্ষ (দ্বিতীয় তলা) ভেন্যুতে “অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন, ফিডস অ্যান্ড ফডার ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক পঞ্চম সেশনে ১০ (দশ) টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপনার পাশাপাশি বিএলআরআই সম্মেলন কক্ষ (চতুর্থ তলা) এর ছাদে চলমান বিভিন্ন গবেষণার উপর মোট ২৮ (আটাশ) টি পোস্টারও প্রদর্শন করা হয়।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর (রবিবার) সমাপনী ও বিশেষজ্ঞ সুপারিশ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী চলমান ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৩’ শেষ হবে।

This post has already been read 1353 times!