Thursday 1st of December 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / বাংলাদেশকে ভোজ্যতেল ক্যানোলা আমদানির প্রস্তাব কানাডার

বাংলাদেশকে ভোজ্যতেল ক্যানোলা আমদানির প্রস্তাব কানাডার

Published at মে ১১, ২০২২

বুধবার (১১ মে ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার ড. লিলি নিকোলস বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি’র সাথে সাক্ষাৎ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশকে কানাডা থেকে ভোজ্যতেল ক্যানোলা আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির বাংলাদেশি হাইকমিশন। বুধবার (১১ মে ) সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার  ড.  লিলি নিকোলস বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি’র সাথে মতবিনিময়কালে এ প্রস্তাব দেন।

কানাডার হাই কমিশনার বলেন, কানাডা বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। কানাডায় বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কানাডার ক্যানোলা ভোজ্য তেল বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমানে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। উভয় দেশের গভঃ টু গভঃ (জিটুজি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ(টিসিবি) এর মাধ্যমে আমদানি করতে পারে। এ বিষয়ে কানাডা সরকার সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,  কানাডা বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। কানাডার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কানাডা বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানির বড় বাজার। উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিপুল সুযোগ রয়েছে, এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিপুল পরিমান ভোজ্য তেল আমদানি করে থাকে। কানাডায় প্রচুর ক্যানোলা উৎপাদন হয়, স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল কানোলা বাংলাদেশে জনপ্রিয় হতে পারে। বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে কানাডা ক্যানোলা ভোজ্য তেল ফ্যাক্টরি স্থাপন করে উৎপাদন করলে বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে পার্শবর্তী দেশে রপ্তানি করে লাভবান হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একশতটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, বেশ কয়েকটির কাজ শেষ পর্যায়ে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশকিছু সুযোগ সুবিধার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে কানাডা লাভবান হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল পরিমান আলু উৎপাদন হয়, এগুলো রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের কৃষি পণ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গবেষণার কাজে কানাডা সহায়তা করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে কানাডায় রপ্তানি করেছে ১,০৭০.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে বাংলাদেশ কানাডা থেকে আমদানি করেছে ৪২৮.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য। কানাডায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ তৈরী পোশাক রপ্তানিতে বিশে^র মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতিতে পোশাক তৈরী ও রপ্তানি করছে। ইউএস গ্রীণ বিল্ডিং কাউন্সিল বিশে^র ১৫৭টি ফ্যাক্টরিকে লিড গ্রীণ ফ্যাক্টরির সার্টিফিকেট দিয়েছে, এর মধ্যে প্রথম ১০টির মধ্যে ৯টিই বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এখন নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে। শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) নুসরাত জাবীন বানু উপস্থিত ছিলেন।

This post has already been read 1188 times!