Wednesday 25th of May 2022
Home / ফসল / বিঘায় ২৩ মণ ফলন হয় ‘ব্রি হাইব্রিড-৭’ জাতের আউশ ধানে

বিঘায় ২৩ মণ ফলন হয় ‘ব্রি হাইব্রিড-৭’ জাতের আউশ ধানে

Published at জুলাই ২৯, ২০২১

ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের আউশ ধান।

ভোলা: ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের আউশ ধানে রেকর্ড ফলন হয়েছে। ক্রপ কাটিংয়ে বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে ২৩ মণ। যা আউশ মৌসুমের অন্য যে কোন জাতের চেয়ে অনেক বেশি।

বুধবার (২৮ জুলাই) ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নে চরমনসা গ্রামের সবুজ বাংলা কৃষি খামারে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের প্রদর্শনী প্লটের ধান কর্তন ও মাঠ দিবসে এ তথ্য পাওয়া যায়। ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মাঠ দিবসে ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক একে এম মনিরুল আলম ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।

ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চরমনসা গ্রামের কৃষক মো. ইয়ানুর রহমান বিপ্লবের ৮ হেক্টর জমির প্রদর্শনী প্লটে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের বীজ বপন করা হয়েছিল এ বছরের ০৮ এপ্রিল। চারা রোপন করা হয়েছিল ০৩ মে। আর কম্বাইন হারভেস্টারে মাধ্যমে গতকাল ২৮ জুলাই ধান কর্তন করা হয়েছে। জীবন কাল ১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ধানের ফলন ৭ মেট্রিক টন (বিঘায় ২৩ মণ)। আর চালের হিসাবে হেক্টর প্রতি ৪.৬০ মেট্রিক টন।

শস্য কর্তনের ফলাফলে আরও জানান হয়, ধান কাটার পর মাঠ থেকেই কাঁচা অবস্থায় ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রয় হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। খরচ বাদে হেক্টর প্রতি কৃষকের লাভ ৭০ হাজার টাকা। সে হিসাবে ৮ হেক্টর জমিতে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে।

উপপরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, চলমান ২০২১-২২ আউশ মৌসুমে ব্রি থেকে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ভোলায়  ১৯৮ হেক্টর জমিতে ব্রি হাইব্রিড-৭ আবাদ হয়েছে। আগামী মৌসুমে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ বলেন, ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের ধান কর্তনের ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। আগামী আউশ মৌসুমে এ জাতের ধান চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আউশ মৌসুমে বেশি করে এ জাতের ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের আহবান জানান তিনি।

ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতটির আউশ মৌসুমে অন্য সকল জাতের চেয়ে ফলন বেশী। আগামী দিনে এ জাতটিকে বিএডিসির মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরবরাহ করতে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

This post has already been read 1016 times!