Tuesday 24th of May 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের কুঁচে ও কাঁকড়া রফতানি বাণিজ্যে নেমেছে ধস

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের কুঁচে ও কাঁকড়া রফতানি বাণিজ্যে নেমেছে ধস

Published at ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০

কুঁচে ও কাঁকড়া

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় খুলনাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদিত কুঁচে ও কাঁকড়া রফতানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়াই কুঁচে ও কাঁকড়া উৎপাদনে নিয়োজিত প্রান্তিক চাষিরা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অসংখ্য কুঁচে ও কাঁকড়ার খামারে মড়কের পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।

জানা গেছে, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলবর্তী এলাকায় চিংড়ি মাছের পাশাপাশি কুঁচে ও কাঁকড়ার চাষ হয়। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফার আশায় হাজার হাজার মানুষ কুঁচে ও কাঁকড়া চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

খুলনা বিভাগের সব থেকে বেশি পরিমাণে কুঁচে ও কাঁকড়ার খামার রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেখানের পারুলিয়া, উজিরপুর, শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জ বাজারের ডিপোগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়া ও কুঁচে কেনাবেচা হয়। এছাড়া খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলাতেও ব্যাপকহারে কাঁকড়া চাষ হয়ে থাকে।

সুন্দরবন নির্ভর এই কাঁকড়া চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। কাঁকড়া ও কুঁচের একমাত্র আমদানিকারক দেশ চীন। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁকড়া ও কুঁচে কেনাবেচায় ব্যাপক ধস নেমেছে। যে কাঁকড়া ২ হাজার টাকা কেজি বিক্রি হতো তা এখন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

অপরদিকে, সাতক্ষীরায় বৃহৎ একটি কাঁকড়ার খামার রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানের। সাকিবের এ খামার থেকে গত দুই বছরে প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে এককভাবে কাঁকড়া ‘চাষিদের’ মধ্যে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’ নামে কাঁকড়া খামারের দায়িত্বরতরা বলেন, বর্তমানে কাঁকড়ার খামারিদের দুর্দিন চলছে। চীনের করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের খামারটি অনেক বড়। তাই লোকসানের পরিমাণটা বড়ই হবে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে জেলায় ৩১০ দশমিক ৯ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়। ওই জমি থেকে দুই হাজার ১৯০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন ও সুন্দরবন থেকে এক হাজার ১০৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলা সাতক্ষীরা। এখানে চিংড়ির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কুঁচে ও কাঁকড়া চাষ হয়ে থাকে। তবে চীনে করোনাভাইরাসের কারণে কুঁচে ও কাঁকড়া রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, তারা চীনের আমদানিকারকদের কাছে ১৫০ কোটি টাকা পাবেন। এর ফলে এক দিকে তাদের ব্যবসা বন্ধ হতে শুরু হয়েছে। অপরদিকে পাওনা টাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন আড়তদাররা। অচিরেই চীন যদি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে তাহলে কুঁচে ও কাঁকড়া চাষের প্রান্তিক খামারী ও কৃষকদের অর্থনৈতিক  বিপর্যয় অনিবার্য।

This post has already been read 3095 times!