Tuesday 17th of May 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনে এগিয়ে মায়ানমার, নির্লিপ্ত বাংলাদেশ!

সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনে এগিয়ে মায়ানমার, নির্লিপ্ত বাংলাদেশ!

Published at এপ্রিল ২৪, ২০১৯

প্রতীকী ছবি।

ঢাকা সংবাদদাতা: মায়ানমার একই সমুদ্রের সমান্তরাল ও ধারাবাহিক অংশে বিপুল পরিমাণ গ্যাসপ্রাপ্তির পর তা উত্তোলন এবং বিদেশে রপ্তানি করলেও আমরা নির্লিপ্ত আছি। মায়ানমার এত বিশাল পরিমাণ গ্যাসের অধিকারী হলেও আমরা গ্যাসসহ অন্যান্য সম্পদ উত্তোলনে উদ্যোগ না দেয়ায় সমুদ্রের যথাযথ ব্যবহার করতে পারছিনা। বুধবার (২৪এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবেনে “Sustainable Blue Economy for the Development of Bangladesh” শীর্ষক দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় সেসনে ‘Blue Economy: Living & Non-Living Resources’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা উক্ত অভিযোগ করেন।

বক্তারা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্যে মূল্যবান জীবিত ও জড়সম্পদের গবেষণা এবং উত্তোলনের পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সমুদ্রের গ্যাস ও বালুসম্পদের পাশাপাশি মৎস্য-ঝিনুক-শামুক, শৈবালসহ যাবতীয় সম্পদ-আহরণে উদ্যোগী হতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ব্লু ইকোনমি অর্থাৎ সমুদ্রসম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোনো কাজেই অর্থের অভাববোধ করেন না। কিন্তু আমাদের বাস্তবমুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তাই এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সমুদ্রসম্পদের ওপর প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশগুলো সরকারের যথাযথ ফোরামে পেশ করার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

সমুদ্রে জড়সম্পদের পাশাপাশি প্রচুর জীবন্তসম্পদ থাকলেও আমাদের অনুসন্ধানী ও জরিপ জাহাজের গভীর সমুদ্রে যাবার সামর্থ্য না থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা গভীর সমুদ্রে যাবার এবং সম্পদ-আহরণের লক্ষে উন্নতমানের জাহাজ আনার জন্য বারবার চেষ্টা করলেও যথাযথ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তিনি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের গবেষণা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিল্পমালিকদের সমুদ্রসম্পদ আহরণে ভূমিকা রাখতে এগিয়ে আসার প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহাসাগরীয় বিভাগের অধ্যাপক ড. কাওসার আহমেদের সভাপতিত্বে নওয়াব নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

অন্যান্যের মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেরিন বায়োলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট – এর ড. সব্যসাচী মজুমদার, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ব্ল ইকোনমি’ সেলের অতিরিক্ত সচিব ড. গোলাম শফি উদ্দীন এনডিসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন ডিপার্টমেন্ট অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (MIST) অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম।

This post has already been read 1026 times!