Wednesday 25th of May 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / কৃষকের যাবতীয় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিবে ‘ফসলি’

কৃষকের যাবতীয় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিবে ‘ফসলি’

Published at জানুয়ারি ৭, ২০১৯

মো. খোরশেদ আলম (জুয়েল): বাংলাদেশ ফল, ফসল ও নানা ধরনের সবজি ছাড়াও পোলট্রি ও মাছসহ বহুক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বর্তমানে একটা ভালো অবস্থানে আছে। তবে আমরা যদি একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করি তাহলে কিন্তু এই ফসলগুলোর উৎপাদন আরো বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। এজন্য যা করার সেগুলো খুব দ্রুত করতে হবে, সময় নষ্ট করা যাবে না। অপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নাই। যদি আমরা সেগুলো করতে পারি তবে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে এবং লাভ হবে অনেক বেশি। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সবচেয়ে বেশি যে ৩টি বিষয় জরুরি সেগুলো হচ্ছে-  ইনোভেশন, প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ।

এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেশের ক্ষুদ্র, কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী এবং কৃষি সম্প্রাসারণ কার্যক্রমের সাথে জড়িত কর্মতর্কাদের সাথে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের কৃষি সেক্টরে অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি এসিআই এগ্রিবিজনেস হাতে নিয়েছে একটি বিশেষ প্রকল্প যার দেয়া হয়েছে নাম আইডিএসএস (IDSS) বা ইন্টিলিজেন্ট ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম। অত্যাধুনিক উপগ্রহ চিত্র, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও আবহাওয়া বিষয়ক তথ্যাদির সমন্বয় এবং বিশ্লেষণের মা্ধ্যমে আইডিএসএস দেশের বিভিন্ন জেলায় অঞ্চলভিত্তিক ও প্রাসঙ্গিক তথ্যসেবা প্রদান করছে। চাষাবাদ এর বিভিন্ন পর্যায়ে এদেশের কৃষকেরা প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, তার দুর করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য -বলে জানিয়েছে এসিআই।

প্রতিষ্ঠানটি এজন্য ‘ফসলি (Fosholi)’ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেছে যা কৃষকের সব ধরনের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে প্রস্তুত। আনুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন না হলেও গুগল প্লে স্টোর থেকে কেউ এটি ডাউনলোড করে কৃষি সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার সমাধান পাবেন এখন থেকেই। এছাড়াও মোবাইলে এসএমএস ও ফোন কলের মাধ্যমে পাওয়া যাবে ফসলি’র সেবাসমূহ। ‘ফসলি’ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের জমি-ভিত্তিক শস্যের উপযোগিতা, বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ বিষয়ক সতর্ক সংকেত, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, চাষকৃত শস্যের বাজারদর এবং কৃষি কাজের সাথে জড়িত সকল প্রধান বিষয় সম্পর্কিত তথ্য পাবেন।

এ সম্পর্কে এসিআই এগ্রিবিজনেস –এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. এফএইচ আনসারী বলেন, ইনোভেশন আমাদের দেশে খুব ধীর গতিতেই এগুচ্ছে। কারণ, এটা খুব ব্যয়বহুল। সারাবিশ্বে ইনোভেশনে এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে প্রাইভেট সেক্টরগুলো। এখানে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়। সুদক্ষ বিজ্ঞানীর দরকার হয়। যে কারণে আমরা যেটা করছি সেটা হলো বেশিরভাগ হাই ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট আমাদের এখানে প্রান্তিক পর্যায়ে মানিয়ে নেয়ার করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, ইদানিং দেশের কিছু কিছু প্রাইভেট কোম্পানি এ জায়গাটিতে বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ইনোভেশন হচ্ছে। পাবলিক সেক্টরের কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয় সেখানেও ইনোভেশন হচ্ছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট কৃষকের হাতে পৌঁছতে খুব দেরি হচ্ছে। যার ফলে কৃষক সেটার সুফল পাচ্ছে না। আমরা একইসাথে নতুন কিছু আবিষ্কার এবং সেগুলো কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজটি করছি যাতে তারা সুফল পায়।

ড. আনসারি বলেন, বাজারে নতুন কোন কিছু খুব সাবধানতার সাথে পরিচিত করাতে হবে। কারণ ইনোভেটিভ প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে টেকনোলজি খুবই সেনসেটিভ একটা বিষয়। যদি এটা ভালোভাবে প্রয়োগ করা না হয় তাহলে কৃষকের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর সে জন্য এটাকে উৎপাদনক্ষম করতে হলে টেকনোলজি বা প্রযুক্তিকে খুব সতর্কতা ও যত্নসহকারে খাপ খাওয়াতে হবে। এজন্য যেসব যন্ত্রপাতি বা কারিগরি সহায়তা লাগে সেগুলোকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের আর্থিক ও কারিগরিভাবে সহায়তা করছে নেদারল্যান্ডস স্পেস অফিস ও এসএনভি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমাদের সহযোগি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরো জানান, দেশের ১২টি জেলার ৯৬,৭৬৮ জন কৃষক আইডিএসএস প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে তাদের নিজ নিজ এলাকার জন্য প্রাসঙ্গি তথ্য ও উপদেশমূলক সেবা পাচ্ছেন। তারা চাষাবাদের আগে, চাষাবাদের সময়ে এবং ফসল তোলার পরে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন উপদেশের পাশাপাশি উক্ত কৃষকেরা আধুনিক চাষাবাদ এবং উন্নত মানের কৃষি উপকরণ (বীজ, সার ও কীটনাশক) এর যথোপযুক্ত ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন ।

কৃষদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি আইডিএসএস প্রকল্পের মাধ্যমে ২৪০ জন কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী এবং ৯৬০ জন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের ও প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে, যারা উক্ত ১২টি জেলার অন্যান্য কৃষকদের কাছে আশা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী উপদেশ ও তথ্য পাওয়ার ফলে এই কৃষদের উৎপাদনশীলতা (১৫% পর্যন্ত)এবং আয় (২০% পর্যন্ত) বৃদ্ধি পাবে।

ড. আনসারি বলেন, ‘ফসলি’ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে এদেশের কৃষকেরা চাষাবাদের আগে চাষাবাদের সময়ে এবং ফসল তোলার সাথে জড়িত সকল পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন যা তাদের্ উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কৃষকদের কাছে তাদের চাহিদা মাফিক তথ্য সহজে পৌঁছে দিতে ফসলিতে যা রয়েছে-

১. চাষাবাদের প্রস্তুতি: নিজ নিজ এলাকা ও মাটির গুনাগুণের ভিত্তিতে উপযোগী ফসল নির্বাচন বিষয়ক সেবা।

২. চাষাবাদ: ফসল উৎপাদন এবং রোগবা্লাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বিষয়ক সঠিক পূর্বাভাস ও তথ্য সেবা।

৩. ফসল সংগ্রহ: নিকটস্থ হাট-বাজার, শস্যের বাজারদর ও ফসল সংরক্ষণ বিষয়ক পরামর্শ।

৪. আবহাওয়া পূর্বাভাস: দুর্যোগজনিত কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের লক্ষ্যে পূর্বাভাস ও সতর্কসংকেত প্রদান।

৫. আমার ফসল: নিজ নিজ এলাকা ও চাষকৃত ফসলের ভিত্তিতে বিশেষায়িত পরামর্শ ও সেবা।

৬. তথ্যকোষ হাতিয়ার: উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্যাবলী।

৭. কৃষকের হাতিয়ার: উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন তথ্য ও সেবা।

৮. কৃষি সম্প্রসারণ সেবা: বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদদের সহযোগিতায় চাষাবাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ সেবা।

This post has already been read 2791 times!