Tuesday 24th of May 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / মানুষ ও পোলট্রি খাদ্যে গাঁদা ফুলের ব্যবহার

মানুষ ও পোলট্রি খাদ্যে গাঁদা ফুলের ব্যবহার

Published at ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

মৃত্যুঞ্জয় রায় : গাঁদাফুলকে কে না চেনে? শীতের সময় হলুদ বাসন্তী-কমলা রঙের প্রচুর ফুল ফুটে গাছ আলো করে ফেলে। অন্য মৌসুমেও ফোটে। তবে গাছ বেঁচে থাকে সারা বছর। এ ফুল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। যারা জানেন, তাদের কাছে গাঁদা ফুলের কদরটা অন্য রকম। কেননা, হঠাৎ কোথাও কেটে গেলে সে স্থানের রক্তপড়া বন্ধ করতে গাঁদা ফুলগাছের পাতা অব্যর্থভাবে কাজ করে। পাতার রসে জীবাণুবিনাশী গুণ থাকায় কাটা স্থানে তা লাগালে সেখানে জীবাণুর সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না। অল্প কাটা হলে সে কাটা দ্রæত পাতার রসের গুণে জোড়া লেগে যায়। তাই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাতের কাছে অন্তত একটা গাঁদা ফুলের গাছ রাখা উচিত।

গাঁদা ফুলগাছের প্রধান ব্যবহার ফুল হিসেবে। পূজা-পার্বণ, বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাঁদা ফুলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিভিন্ন সজ্জা বা সাজানো কাজে এর ফুল ও মালা ব্যবহার করা হয়। কনে সাজানো থেকে শুরু করে বিয়ের আসর সজ্জা এমনকি মৃত ব্যক্তিকে সাজানোয় গাঁদা ফুলের ব্যবহার রয়েছে। মেক্সিকো, ইউরোপের অনেক দেশে এবং থাইল্যান্ডে শবদেহ ও কবর দেয়ার পর সেসব কবর গাঁদা ফুল দিয়ে সাজানোর রীতি রয়েছে। প্রতি বছর সমাধি সৌধে গাঁদা ফুল দেয়ার প্রচলন রয়েছে। নেপালে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে গাঁদা ফুলের মালা ব্যবহার করা হয় না। বিশেষ করে তিহার উৎসবের সময়। সুপ্রাচীনকাল থেকে এর ভেষজ ব্যবহার লক্ষ করা যায়। চরক সংহিতায় চিকিৎসার্থে গাঁদা ফুল গাছ ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

তবে খাদ্য হিসেবেও গাঁদা ফুলগাছের ব্যবহার দেখা যায়। কোনো কোনো দেশে লেটুস সালাদে রঙ সৃষ্টি ও সুগন্ধ আনতে ফুলের পাঁপড়ি ছিঁড়ে তার সাথে ছিটিয়ে দেয়া হয়। কোনো কোনো দেশে গাঁদাফুল থেকে খাদ্যের রঙ বা ফুড কালার এবং ঘ্রাণ তৈরি করা হয়। এসব দ্রব্য স্যুপ ও সস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

গাঁদা ফুল শুকিয়ে তা গুঁড়ো করে পোলট্রি খাবারের সাথে মিশিয়ে হাঁস-মুরগিকে খেতে দেয়া হয়। এতে ডিমের কুসুমের রঙ উজ্জ্বল ও গাঢ় কমলা বা সোনালী হয়, ব্রয়লার মাংসের ও চামড়ার রঙে উজ্জ্বলতা আসে। ফসলের ক্ষেতে গাঁদা ফুল গাছ লাগিয়ে সেসব ফসলের ক্ষতিকর কৃমিকে বিতাড়ন করা হয়। সুগন্ধি দ্রব্য হিসেবেও গাঁদা ফুলের তেলের ব্যবহার রয়েছে।

চন্দন তেলের সাথে গাঁদা ফুলের তেল মিশিয়ে সুগন্ধি দ্রব্য তৈরি করা হয় যা ‘আতর-গেন্দা’ নামে পরিচিত। এই তেল ছারপোকা মারতেও ওস্তাদ। মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকায় এর পাতা ও ফুল শুকিয়ে তা দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। গাঁদা ফুলগাছ শুকিয়ে তা গোয়ালে পোড়ানো ও ধুঁয়া দেয়ার প্রচলন রয়েছে। এতে গোয়ালের পোকামাকড়, মশা মাছি চলে যায়। টমেটো গাছের ক্ষতিকর সাদা মাছি বিতাড়নেও গাঁদা ফুল কাজ করে বলে জানা গেছে।

লেখক: প্রকল্প পরিচালক, সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা।

This post has already been read 2218 times!