Tuesday 9th of August 2022
Home / পোলট্রি / একটি বাড়ি পাঁচটি হাঁস, পুষ্টি আমিষে বারো মাস

একটি বাড়ি পাঁচটি হাঁস, পুষ্টি আমিষে বারো মাস

Published at অক্টোবর ৪, ২০১৭

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : ‘একটি বাড়ি পাঁচটি হাঁস, পুষ্টি আমিষে বারো মাস” এমনি প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে খুলনা জেলার রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চলছে হাঁস ও লেবু গাছ বিতরণ। হতদরিদ্র পরিবারের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনয়নে ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছেন সমাজ সেবক শরীফ শাহ কামাল তাজ।

hasএ সম্পর্কে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ডোমরা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মল্লিকের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, চারটি মায়া (স্ত্রী) ও একটি মদ্দা (পুরুষ) হাঁসের বাচ্চা পেয়ে পালন করছি, বড় হলে ডিম দেবে। প্রথমে ডিম ফুটিয়ে আরো বাড়াবো; তারপর ডিম খেতে পারবো, গোশতও খেতে পারবো। লেবু খেতেও পারবো, বেচতেও পারবো। এতে আমি খুব খুশি; হাঁসগুলো বেঁচে থাকলে আমার হাতেও দু’টো পয়সা জমবে।
“আসুন সবাই বাড়ির আঙিনায় একটি কওে লেবু গাছ লাগাই/সবার মাঝে ভিটামিন সি’র সচেতনতা জাগাই।” এ শ্লোগান বাস্তবায়নে দরিদ্র পরিবারের প্রতিটি বাড়িতে লেবু গাছ রোপনের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

জানা যায়, এ বছর ১৭ আগস্ট থেকে রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ডোমরা ও হোসেনপুর গ্রামে শুরু হয়েছে প্রকল্পটির কার্যক্রম। বিতরণ শুরু হয়েছে হাঁসের বাচ্চা ও লেবু গাছ। একই সাথে আইচগাতি ইউনিয়নে দুর্জনীমহল ও জোয়াওে লেবু গাছের চারা রোপন চলছে। পর্যায়ক্রমে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ সুবিধা দেয়া হবে।

প্রকল্প সূত্র জানায় রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের ১০টি পরিবারকে পাঁচটি হাঁসের বাচ্চা ও দু’টি লেবু গাছ দেয়া হবে। দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় সমাজ সেবক শরীফ শাহ কামাল তাজ। এক মাসের মধ্যে কোন হাঁসের বাচ্চা মারা গেলে বা নির্ধারিত সময়ে লেবু গাছে ফলন না এলে পুনরায় হাঁস ও গাছের চারা রোপণ কওে দেয়া হবে। তদারকিতে স্ব স্ব ইউনিয়নে নির্ধারিত ব্যক্তি নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রকল্পের সুবিধাভোগী রূপসার ডোমরা গ্রামের মোসলেম শেখের স্ত্রী লাইলি বেগম ও একই এলাকার মো. শফিউদ্দিনের মেয়ে আলেয়া বলেন, ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে হাঁস-মুরগী কিনে পুষতে পারতাম না। পয়সার অভাবে একটা ডিম কিনেও খেতে পারতাম না; হাঁস খাওয়া তো দূরের কথা। এখন আল্লায় দিলে আমরা নিজেরাই হাঁসের মালিক।

This post has already been read 2259 times!