
নিজস্ব প্রতিবেদক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতাগুলোও চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা, জুলুম-নির্যাতন ও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। সরকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে যেকোনো পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য স্থানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থেই প্রশাসনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়া উচিত।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিগণ, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।



