
সিভাসু সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এর মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “Annual Get-Together, Internship Feedback and Award Gala-2026”। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, শিক্ষক এবং দেশের মৎস্যখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
মৎস্যখাতে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা সিভাসুর মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ ইতোমধ্যে ১৪তম বছরে পদার্পণ করেছে। এ পর্যন্ত অনুষদ থেকে নয়টি ব্যাচ স্নাতক সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে একাধিক ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশে এই অনুষদই প্রথম স্নাতক পর্যায়ে তিন মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালু করে, যা এখনো ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আয়োজিত বার্ষিক মিলনমেলা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি অনুষদের শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম ও শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অনুষদের সকল বর্ষের প্রায় ২৫০ জন বর্তমান শিক্ষার্থী, ৬০ জন সদ্য স্নাতক, প্রায় ৩০০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী (অ্যালামনাই), সিভাসুর শিক্ষকবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হ্যাচারি মালিক, ফিশারিজ টেকনিশিয়ান, ফার্ম ম্যানেজারসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মৎস্যখাত সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। অত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, মাননীয় উপাচার্য, সিভাসু।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে সকাল ৯টায় নিবন্ধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এরপর ইন্টার্নশিপ অভিজ্ঞতা বিষয়ক ফিডব্যাক সেশন, ক্যারিয়ার ইনসাইট টক, অ্যালামনাই হোমকামিং ও নেটওয়ার্কিং সেশন, অনুষদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড, গবেষণা পুরস্কার এবং বিগত ২১ নভেম্বর ২০২৫ এ বিশ্ব মৎস্য দিবসে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে ফিশ ফিস্ট ও আকর্ষণীয় নৈশভোজ।
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ জানান, “এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সমন্বয় জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ মৎস্যখাতের নেতৃত্ব তৈরিতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করা।”
এ ধরনের উদ্যোগ মৎস্যখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ এবং টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।



