
নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ-এর উদ্যোগে আজ (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কটন ডেভেলপমেন্ট বোর্ড অডিটোরিয়ামে “Sustainable Economic Development and Livelihood Resilience” শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবদুল লতিফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রুনা খান। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ফ্রেন্ডশিপ-এর সিনিয়র ম্যানেজার ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন,“টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবিকায়ন সহনশীলতা অর্জনে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের সমন্বিত উন্নয়ন অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়াতে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন।”
মূল উপস্থাপনা ও কারিগরি প্রবন্ধ কর্মশালায় ফ্রেন্ডশিপ-এর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সংস্থাটির অংশীদারিত্ব কাঠামো তুলে ধরেন ফ্রেন্ডশিপের হেড অব পার্টনারশিপ মাহবুবুর রহমান তূর্য। তিনি জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম অঞ্চলে জীবিকায়ন সহনশীলতা গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়া “Sustainable Economic Development and Livelihood Resilience” বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফ্রেন্ডশিপের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ ড. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর উপস্থাপনায় কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও অ-কৃষি জীবিকায়নের সমন্বিত মডেলের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান শিকদার “Beyond Project to System: Sustainable Economic Development & Livelihood Resilience in Bangladesh” শীর্ষক একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। তিনি প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাভিত্তিক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অন্যান্য অতিথিদের বক্তব্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবদুল লতিফ বলেন, এদেশের সবাই কৃষকদের কথা বলে কিন্তু প্রকৃত কৃষকদের কস্ট আমরা কেউ বুঝি না। ফলে প্রকৃত কৃষক আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। একজন কৃষক, তার সন্তানদের আর কৃষক বানাতে চান না। কারণ, তাদের কস্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, শিক্ষা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান টেকসই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণে সরকারি–বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক, বাজেট ও অর্থ মোঃ সাহেদ আলী বলেন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মৎস্য ও জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা জোরদারের আহ্বান জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. ফারুক আহমেদ বলেন, পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক রুনা খান বলেন, দেশের সবচেয়ে দুর্গম ও জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবিকায়ন সহনশীলতা গড়ে তুলতে ফ্রেন্ডশিপ দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন মডেলে কাজ করে যাচ্ছে।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), ওয়ার্ল্ডফিশ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC), KGF, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC), তুলা উন্নয়ন বোর্ড, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ভবিষ্যৎ করণীয় ও সমন্বিত কর্মপন্থা নির্ধারণের মাধ্যমে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



