Tuesday 16th of April 2024
Home / সংগঠন ও কর্পোরেট সংবাদ / বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে আগামীর আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো

বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে আগামীর আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো

Published at ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসছে ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার পূর্বাচলে অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন ফেন্ডশীপ এক্সিবিশন সেন্টার’যেখানে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হয় সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ।   আগামী বছর (২০২৫ সন) ফেব্রুয়ারি মাসে উক্ত মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন- বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা-বিবি) বার্ষিক সাধারণ সভায় এ  তথ্য জানানো হয়। এছাড়াও ১৮-১৯ মে “Cost Effective and Sustainable Poultry Production in Bangladesh শীর্ষক ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওয়াপসা-বিবি কার্যালয়ে উক্ত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দঘন পরিবেশে প্রায় তিন শতাধিক সদস্যের সরব উপস্থিতি ও আলাপচারিতায় মুখরিত ছিল বসুন্ধরা ওয়াপসা-বিবি’র কার্যালয়। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মসিউর রহমান। সম্পাদিত ও চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক। ২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করেন কোষাধক্ষ্য মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান (ফয়েজ)।

সাধারণ সভার স্বাগত বক্তব্যে ওয়াপসা-বিবি সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। একদিন-বয়সী-মুরগির বাচ্চা, মুরগির মাংস, ডিম ও ফিডের শতভাগ চাহিদা এখন দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পূরণ হচ্ছে। তবে ডলার সংকট, কাঁচামালের দামের উর্ধ্বগতি, ঋণপত্র খোলার জটিলতা, Market volatility এবং আইনী জটিলতায় বেশ খারাপ সময় যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এক সময় প্রোডাকশন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ থাকলেও বিগত ক’বছর যাবৎ নিরাপদ ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদনে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ভোক্তারা এখন Food safety বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। Product quality, Food Safety Standards, Sanitation Practices, Animal Welfare এ বিষয়গুলো এখন অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফুড ও ফিড সেফটি নিশ্চিত করতে ইন্ডাষ্ট্রিকে সহায়তা করা তাই ওয়াপসা-বিবি’র জন্য বড় একটি কাজ।

মসিউর রহমান আরো বলেন, আমাদের দেশের পোল্ট্রি ও ফিস ফিডের মান নিঃসন্দেহে অনেক ভাল তবে আরও উন্নত করতে হবে। সেজন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে নিজ উদ্যোগে নিয়মিতভাবে ফিড টেস্টিং করতে হবে। যে সব ফিডমিল মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হবে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রিসাইক্লিং ও তার পুণঃব্যবহারে কথা বিগত ক’বছর ধরে বলা হলেও অগ্রগতি খুবই ধীর। কার্বন ফুট প্রিন্ট, পরিবেশের উপর প্রভাব, এন্টিবায়োটিক রেজিট্যান্স, ইমার্জিং ও রিইমার্জিং ডিজিজ, জলবায়ুর পরিবর্তন- এগুলো কথার কথা নয়। এগুলো এখন বাস্তবতা। তাই বিষয়গুলোতে সরকারের আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। খামারি ও উদ্যোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে এবং গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

ওয়াপসা-বিবি সভাপতি বলেন, ভ্যাকসিনগুলো ঠিক মতো কাজ করছে না। H5N1, H5N3, H5N4, H5N5, H5N6 or H5N8 এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার এ সাবটাইপগুলো বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় পোল্ট্রি বিজ্ঞানীদের সহযোগিতা চান তিনি। “কিছু নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে- ২০২০ সালের পর আমাদের দেশে ডিম, মুরগি ও ফিডের উৎপাদন কমেছে। এটা উদ্বেগজনক। ২০৩১ ও ২০৪১ সালের জন্য সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন- সেটা পূরণ করতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। খামারি ও উদ্যোক্তাদেরকে ভয় না দেখিয়ে বরং তাঁদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে হবে; বন্ধ হওয়া খামারগুলো পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করতে হবে, তৃণমূল খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে”।

ওয়াপসা-বিবি’র সাবেক সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, মানুষের খাবার ও পশুর খাবারে হেভিমেটাল ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতির গ্রহণযোগ্য মাত্রা কখনই এক হতে পারে না। কারণ, পশু যে খাবার খায় মানুষ তা খায় না। পশুখাদ্যে এমন কিছু উপকরণ ব্যবহৃত হয় যা প্রকৃতি থেকে আসে এবং সেগুলোতে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি স্বাভাবিক কারণেই বেশি থাকে। তাছাড়া ক্রোমিয়াম মানেই ক্ষতিকারক- এমন ধারণাও সঠিক নয়। আন্তর্জাতিকভাবেই উপকারি ক্রোমিয়াম বাজারে বিক্রি হয় এবং তা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত হয়। কাজেই গড়পড়তাভাবে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি বেশি বলারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পশুখাদ্যে ক্রোমিয়ামের যে গ্রহণযোগ্য মাত্রা, তার সাথে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এর ব্যবধান ব্যাপক। এ ধরনের সায়েন্টিফিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াপসা-বিবি সভাপতি একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ও একাধিক পুরস্কার বিজয়ী পোল্ট্রি খামারি মো. শাহিনুর রহমান প্রান্তিক খামারিদের জন্য ওয়াপসা-বিবি’র পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ সাজেদুল করিম সরকার- বাংলাদেশে ‘ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি কংগ্রেস’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। সেটি সম্ভব না হলে প্রাথমিকভাবে ‘এশিয়ান পোল্ট্রি কংগ্রেস’ আয়োজনের ব্যাপারে ওয়াপসা-বিবি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নারী গবেষকদের উৎসাহিত করতে ‘ওয়াপসা-বিবি মাস্টার্স রিসার্চ গ্রান্ট’ -এ নারী ও পুরুষ গবেষকদের সমান সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম। নোভিভো হেলথ কেয়ার লি. এর ডা. তরিকুল আলম ফকির (বুলবুল)- আইবিএইচ ও রিইমার্জিং ডিজিজ বিষয়ে একটি পলিসি ডায়ালগ আয়োজনের প্রস্তাব করেন। ইউ-কে বাংলা এগ্রো প্রোডাক্টস লি: এর পরিচালক জাহিদুল ইসলাম- ফিড উপকরণে ভারি ধাতু, ক্রোমিয়ামসহ অন্যান্য উপকরণের স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ ও ফিড স্টেস্টিং ম্যাথোড বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।

পোল্ট্রি খামার বিচিত্রার প্রধান সম্পাদক জনাব কামাল আহম্মদ, এক্সিল লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোর্শেদ আলম ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আব্দুল কাফি’র অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

This post has already been read 1849 times!