Saturday 4th of February 2023
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / এলসি নির্বিঘ্ন করতে সরকারের সহযোগিতা চাই – ড. আনসারী

এলসি নির্বিঘ্ন করতে সরকারের সহযোগিতা চাই – ড. আনসারী

Published at ডিসেম্বর ৭, ২০২২

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় খামারবাড়িতে বিএআরসি মিলনায়তনে ’নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য : সবাই মিলে, সবার জন্য’ শীর্ষক ২য় জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এসিআই এগ্রিবিজনেস প্রেসিডেন্ট ড. এফএইচ আনসারী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: যেখানে আমরা ৫- ১০ মিলিয়ন ডলারের এলসি করতাম, সেখানে বর্তমানে ১ লাখ ডলারের বেশি এলসি করতে পারছি না। আমি মনে করি, এ সমস্যাটি কেবল আমার একার নয়, আমাদের বেসরকারি প্রায় সব কোম্পানি একই সমস্যার মধ্যে আছেন। আমাদের সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে পোলট্রি, মৎস্য ও প্রাণিজাত প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই আমদানি করতে হয়। ব্যাংকে নির্বিঘ্নে এলসি করতে সরকারের সহযোগিতা চাই।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় খামারবাড়িতে বিএআরসি মিলনায়তনে ’নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য : সবাই মিলে, সবার জন্য’ শীর্ষক ২য় জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন এসিআই এগ্রিবিজনেস প্রেসিডেন্ট ড. এফএইচ আনসারী। বিসেফ ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. আনসারী বলেন, বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতি এখন কিছুটা টালমাটাল। বাংলাদেশের পরিস্থিতি সেই তুলনায় ভালো। তবে বেশ কিছুদিন যাবত কৃষি উপকরণ আমদানি একটা সমস্যার দিকে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আপনার একান্ত সহযোগিতা চাই।

ড. আনসারী বলেন, খাদ্যাভাস একটা ‍সংস্কৃতি। আমাদের সচেতনতাই পারবে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ পরিহার করতে ও নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য খাদ্য গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে। আমাদের দেশের খাদ্যাভাস হল, ভাত কেন্দ্রিক।  খাদ্যাভাসের কারণে, আমরা প্রচুর পরিমানে ভাত খাই, তবে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার আমরা প্রয়োজনের তুলনায় কম খেয়ে থাকি। FAO Report অনুসারে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মানুষের  খাবারে স্বাস্থ্যকর বা পুষ্টিকর খাবার যোগ করার ‍সুযোগ রয়েছে। বিষয়টা এমন না যে খাদ্যের অভাব বরং উপযুক্ত খাদ্যভাসের অভাব।

তিনি বলেন, Global Food Security Index (GFSI) 2022 অনুসারে, বাংলাদেশ ’গুনগতমানসম্পন্ন এবং নিরাপদ খাদ্যে’ ৭১তম, ১১৩ দেশের মাঝে। ফুড ভ্যালু চেইনের মধ্যে উপকরণ, উৎপাদন, ফসল কাটা এবং ফসল কাটার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াকরণ রিটেইল/ডিস্ট্রিবিউশন, ইত্যাদি অন্যতম।

‘এই ফুড ভ্যালু চেইনে, উপকরণ থেকে উৎপাদন এবং ভোগ পর্য়ন্ত কোন না কোনভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও প্রাপ্যতায় সমস্যা দেখি। তবে সবক্ষেত্রেই এই সমস্যা প্রকট, এমনটা নয়। ফুড ভ্যালু চেইনে উপকরণ ও উৎপাদন, ফসল কাটা এবং ফসল কাটার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াকরণ ও রিটেইল/ডিস্ট্রিবিউশন, এবং ভোগ বিষয়ে সচেতন হতে হবে’ -যোগ করেন ড. আনসারী।

তিনি আরো বলেন, খাদ্যের প্রাপ্যতায় আমরা অনেক এগিয়েছি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বাস্তবায়নে, আমরা অনেক এগিয়েছি এটা যেমন সত্য, তেমনি আমাদের আরো সামনে এগোবার পথ রয়েছে। তবে পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আমরা এখনো  পিছিয়ে। জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই।

আমরা কি খাচ্ছি এবং সেটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু দরকার, সে খাবার থেকে কতটুকু পুষ্টি অথবা শক্তি পাবো সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। যিনি উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তার যেমন সচেতনতা প্রয়োজন; তেমনই যিনি ভোগ করবেন তার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ও সচেতনতা বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

This post has already been read 750 times!