Saturday 1st of October 2022
Home / অন্যান্য / কেআইবি’র উদ্যোগে কুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

কেআইবি’র উদ্যোগে কুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

Published at আগস্ট ২৯, ২০২২

আব্দুল মান্নান (কুড়িগ্রাম): কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে ও জোবেদা বাতিঘর নারী কল্যান সংস্থার আয়োজনে কুড়িগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০টায় মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার অফিস প্রাঙ্গনে শতাধিক মৎস্যচাষী ও কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে উক্ত কৃষি উপকরণ (মাছের পোনা, হাসের বাচ্চা, সবজী বীজ ইত্যাদি) বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে.এম. জাকির হোসেন।
কেআইবি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহানাজ বেগম এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি প্রফেসর জাকির হোসেন বলেন, দেশের মোট জিডিপির এক পঞ্চমাংশ অর্জিত হয় কৃষি খাত থেকে। তার চেয়েও বড় কথা কৃষি এ দেশের জন মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা প্রদানের প্রধান এবং অন্যতম উৎস। এখনও এ দেশের বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থানও হয়ে থাকে কৃষিকে অবলম্বন করেই। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রায় মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে কৃষিক্ষেত্রে যে অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে শুরুতেই ২০০৯ সনে নির্বাচিত হয়ে মহাজোট সরকার সেটি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। গত অর্ধযুগ ধরে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা বর্তমান সরকারের কৃষি ভাবনার এক বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, গত ৫০ বছরে উৎপাদন বেড়েছে চারগুণ। সবচেয়ে বেশি সফলতা এসেছে শেষ এক দশকে। খাদ্যের জন্য এখন আর অন্য দেশের কাছে ধর্ণা দিতে হয় না। বরং শীর্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। প্রতি বছর এক শতাংশ হারে জমি কমলেও কৃষি পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে গাণিতক হারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টার উৎপাদন বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
কৃষিতে এই সাফল্যের বীজ বপন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা উত্তর খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার জন্য তিনি গ্রহণ করেন নানা উদ্যোগ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি ডাক দেন সবুজ বিপ্লবের। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন কৃষিতে। কিন্তু ৭৫’র ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের নির্মমতায় থমকে যায় সেই অগ্রযাত্রা।
ভিসি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া অনুপ্রেরণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে ঢেলে সাজিয়েছেন। উন্নয়নে সবদিক থেকে বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো সবার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্বপ্নের উন্নত দেশের সম্মান। সেক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শস্যের বহুমুখীকরণ এবং খোরপোষ  কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক কৃষির সুফল লাভের জন্য প্রয়োজন ছোট-বড় কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিস্তার, কৃষিপণ্য রফতানির অধিকতর সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং সুসংগঠিতভাবে দেশীয় বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা, কৃষি বিপণন অধিদফতরের কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং কৃষি বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং শক্তিশালীকরণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার  বিচক্ষণতা, দৃঢ় প্রত্যয় এবং সফল নেতৃত্বে  সে লক্ষ্যে নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যাব।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরনে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রাম তথা উত্তরের কৃষির উন্নয়ন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।
উপকরণ পাওয়ার পর বিমল চন্দ্র সরকার নামের এক কৃষক তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, কুড়িগ্রাম বন্যা কবলিত একটি জেলা। এ জেলায় বছরে কয়েকবার বন্যা হয়। প্রতিবারের ন্যায় এ বছরেও অনেকের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে যেটা আমাদের মতো মানুষের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কষ্টসাধ্য। তথাপি আজ কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন হতে যে উপকরণ দেওয়া হলো এটি কিছুটা হলেও আমার মতো কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে। আমি মাননীয় ভিসি স্যারের মাধ্যমে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে মৎস্য প্রসেসিং ও স্টোরেজ সেন্টার করে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন,  বিএডিসি’র উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মৎস্য অফিসার কালিপদ রায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, উপকরণ বিতরণ করার পূর্বে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এ.কে.এম জাকির হোসেন সূর্য ডিম জাতের একটি আমের চারা মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের অফিস প্রাঙ্গনে রোপন করেন।

This post has already been read 129 times!