Saturday 24th of September 2022
Home / অন্যান্য / বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে হাটছে না -ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে হাটছে না -ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

Published at আগস্ট ২৯, ২০২২

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিজ্ঞানী সমিতি (বারিসা) আয়োজিত “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে গেস্ট অব অনার এবং মূল বক্তার বক্তব্যে রাখছেন বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু গবেষক, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

গাজীপুর সংবাদদাতা: বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু গবেষক, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে হাটছে না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সোনার বাংলা গড়তে আমার সোনার মানুষ চাই’। আমাদের বৈশ্বয়িক সমৃদ্ধি হয়েছে, অর্থনিতিক সমৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু মানুষের কি উন্নতি হয়েছে? আমার তা মনে হয় না। বৈশ্বয়িক সমৃদ্ধির সাথে মানুষের অধগতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সোনার মানুষ। আদৌ কি মানুষ সোনার আছে? বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বায়বীয় কথা বলা যায়, অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিকতা করা যায়! বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করলে বাংলা ও বাঙালীকে বাঁচানো যায়।

বারিসা’র সভাপতি ড. মো. ওমর আলী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারি’র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. কামরুল হাসান, পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. তারিকুল ইসলাম এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. অপূর্ব কান্তি চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারিসা’র সাধারণ সম্পাদক ড. মো. জিল্লুর রহমান। সেমিনারে বারি’র বিভিন্ন কেন্দ্র ও বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর বথা বলতে হলে অতি অবশ্যই বঙ্গমাতার কথা বলতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী মানে বঙ্গমাতারও ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী। বঙ্গমাতার ইতিহাস খুজতে যেয়ে আমি দেখেছি এই মহিলা তার স্বামীর জন্য যা করেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালীর বটবৃক্ষ, আর বঙ্গবন্ধুর ছায়াবৃক্ষ ছিলেন বঙ্গমাতা। তবে আমি বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মনে করি না, তিনি ছিলেন জননেতা। কারণ জনগণ সম্পৃক্ত একটি রাষ্ট্র এই ভূখ- বঙ্গবন্ধুরই অবদান। আর সেই জননেতা হত্যা করেছে এই বাঙালীরা। পৃথিবীর মধ্যে এতো আত্মপর জাতি আর নেই। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- সঠিক তদন্তে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শীতা, সাহসীকতা আর আত্মবিশ্বাসের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। কারণ বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই তিনটি গুণের সমাহারের মধ্য দিয়ে। আজ সোমবার (২৯ আগস্ট) সোমবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে গেস্ট অব অনার এবং মূল বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিজ্ঞানী সমিতি (বারিসা) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিজ্ঞানী সমিতি (বারিসা) আয়োজিত “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখছেন বারি’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বারি’র মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, আমরা আজ এই অনুষ্ঠানের মূল বক্তার বক্তব্য থেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানলাম, নিজেদের সমৃদ্ধ করলাম। আমরা শরীর নামক বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ তা আমাদের মাঝে উজ্জীবিত আছে। বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয়, তিনি সার্বজনীন। তিনি ছিলেন ক্ষণজন্মা। স্বাধীনতার পর অতি অল্প সময় পেলেও দেশকে সুগঠিত করেছিলেন। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তাদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলেই জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতাসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এ শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

This post has already been read 176 times!