Sunday 2nd of October 2022
Home / খাদ্য-পুষ্টি-স্বাস্থ্য / লাল/কমলা কুসুমে পুষ্টি বেশি -ভ্রান্ত ধারণা এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা

লাল/কমলা কুসুমে পুষ্টি বেশি -ভ্রান্ত ধারণা এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা

Published at আগস্ট ৭, ২০২২

কৃষিবিদ মো. নিহাল হোসেন : আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের ধারণা ডিমের কুসুম যত লাল হবে সেই ডিমের পুষ্টিমান তত বেশি হবে। আর তাই বাজারে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের চাহিদার শীর্ষে থাকে লাল/কমলা কুসুম সমৃদ্ধ ডিম। যার দামও বাজার দর থেকে খানিকটা বেশি।

প্রথমেই আমাদের জানা দরকার ডিমের কুসুমের রঙ এর সাথে পুষ্টিমানের কি আদৌ কোন সম্পর্ক আছে কিনা।

মূলত কুসুমের রঙ নির্ভর করে মুরগি কি খাচ্ছে তার ওপর। ডিমের কুসুমের রং লাল/কমলা হয় ক্যারোটিনয়েড নামক রাসায়নিকের প্রভাবে। যে মুরগি খোলা জায়গায় যত বেশি ঘুরবে সে মুরগির ডিমের কুসুম তত গাড় হবে। বিষয়টি একটু খেয়াল করলেই বুঝবেন। যেমন বর্ষাকালে হাঁসের ডিমের কুসুম  অপেক্ষাকৃত গাড় রঙের হয়। এরজন্য মূলত দায়ী বর্ষাকালে হাসের পালন ব্যবস্থা। বর্ষাকালে হাঁস বাহিরে প্রচুর ঘোরাফেরা করে ডাক উইড সহ নানা রকম শ্যাওলা খায় যা থেকে সে প্রচুর পরিমানে জ্যান্থোফিল পিগমেন্ট পায় এবং এর ফলে বর্ষাকালে হাঁসের ডিমের কুসুম কমলা হয় অথচ একই হাঁসের ডিম কিন্তু অন্যসময় এত লাল/কমলা হয় না। পিগমেন্টের কোন নিউট্রিয়েন্ট ভ্যালু নেই তাই এই পিগমেন্ট কিন্তু ডিমের কুসুমের পুষ্টিমানের কোন পরিবর্তন করেনা। ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২  গ্রাম ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে। কুসুমের রং যা-ই হোক না কেন, সাধারনত এই মাপের খুব একটা হেরফের হয় না।

অর্থাৎ মুরগি কতটুকু জ্যান্থফিল সমৃদ্ধ খাবার খেল তার ওপর ভিত্তি করে কুসুমের রঙ পরিবর্তন হলেও তা পুষ্টিমানের কোন হেরফের করেনা।

এবার আসুন ভবিষ্যৎ স্বাস্থঝুকির বিষয়টি নিয়ে একটু কথা বলি

অর্থনীতির একটি পরিচিত সিদ্ধান্ত হলো চাহিদা বাড়লে যোগান বাড়বে; আর যোগান কম কিন্তু চাহিদা বেশি হলে দাম বাড়বে। প্রাকৃতিকভাবে লাল/কমলা কুসুমের ডিমের যোগান খুবই অল্প। বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন নেই। মানুষ যদি পুষ্টিমান সম্পর্ক না বুঝে এই ডিমের চাহিদা বাড়িয়েই চলে ,তবে এ ডিমের অনর্থক সংকট দেখা দেবে।

উপরের আলোচনা থেকে এতক্ষণে বুঝে গেছেন খাবারের মাধ্যমে কুসুমের রং পরিবর্তন করা যায়। তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাদুচক্র শুরু করবে মুরগির খাবারে পিগমেন্ট ম্যানিপুলেশন। অর্থাৎ খুব সস্তা বা কৃত্রিম কোন সোর্স থেকে প্রয়োজনীয় জ্যান্থোফিল সর্বরাহ করে কুসুমের রঙ গাড় করা হবে। কিংবা লেইং মুরগিকে জ্যান্থফিল ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হবে। তখন অধিক পুষ্টির নামে খেতে হবে অস্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে উৎপাদিত ডিম।

এই ফাঁকে আর একটি কথা বলে রাখি এবং তা হলো- ডিমের খোসা সাদা নাকি বাদামি এর সাথেও পুষ্টিমানের সম্পর্ক নেই। এটি মুরগির কৌলিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট মাত্র। সুতরাং আসুন রং দেখে নয় বরং পুষ্টিমান বিবেচনা করে ডিম খাই।

লেখক:  প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, দাবী মৌলিক উন্নয়ন সংস্থা।

This post has already been read 496 times!