Saturday 10th of December 2022
Home / ট্যুরিজম / পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচনে সুবাতাস সুন্দরবনে, কম সময়ে ভ্রমণে বাড়বে পর্যটক ও রাজস্ব আয়

পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচনে সুবাতাস সুন্দরবনে, কম সময়ে ভ্রমণে বাড়বে পর্যটক ও রাজস্ব আয়

Published at জুন ২৮, ২০২২

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : দ্বার উন্মোচন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর । আর সেতু উদ্ধোধনে পাল্টে যেতে শুরু করেছে সবকিছুই। সেতুতে সময় শ্রায়য়ের সাথে কমবে ভোগান্তি। এরমধ্যেই এ সেতুর সুবাতাস বইতে শুরু করেছে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে। ভৌগলিক দিক দিয়ে সুন্দরবনের কোলে অবস্থান হওয়ায় একমাত্র সড়ক পথে মোংলা থেকেই যেতে হয় এ সুন্দরবনে। তাই স্বল্প সময় ও খরচে সুন্দরবনকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রুপে দেখার সুযোগ কেবল মোংলাতেই রয়েছে।

খোঁজ খবরে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখন সড়ক পথে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে মোংলা হয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে সুন্দরবনে। যে সুযোগ আর কোথাও পাওয়া যাবেনা। এটি ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিষয়। ফলে ভ্রমন মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে সুন্দরবন বিভাগের অর্থনীতি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ২০২১-২০২২ইং অর্থ বছরে সুন্দরবনে পর্যটক এসেছে ১ লাখ ২০ হাজার। এখান থেকে সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সুন্দরবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পর্যটকদের সংখ্যা যেমন বাড়বে তেমনি রাজস্বও বাড়বে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পর্যটকদের চাপ সামলাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, হাড়বাড়িয়া, কটকা, কচিখালী ও দুবলা ও পশ্চিম বিভাগের হিরণপয়েন্ট ও কলাগাছিয়া এই সাতটি ইকোট্যুরিজমের সাথে নতুন আরও চারটি ইক ট্যুরিজম কেন্দ্র যোগ করা হচ্ছে। সুন্দরবন ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক, শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ও পশ্চিম বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের শেখের টেক ও কালাবগিতে নতুন এই ট্যুরিজমগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এসব ইকোট্যুরিজমে পর্যটকদের সুব্যবস্থার জন্য জন্য গোলঘর, ফুট ট্রেইলার, পাবলিক শৌচাগার, ওয়াচ টাওয়ার ও রাস্তা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ সকল প্রকল্পের অগ্রগতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। এ বন কর্মকর্তা আরো বলেন, যে কোন পর্যটন হোক বা ইকোট্যুরিজম হোক তারমধ্যে অন্যতম সুবিধা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। দীর্ঘদিন সুন্দরবন কেন্দ্রিক যে ইকোট্যুরিজমে পর্যটকরা আসতো, তারা সব সময় যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকার কারণে এখানে আসার অনীহা প্রকাশ করতো। কিন্তু এখন সেতু যেহেতু চালু হয়েছে তাই অতিরিক্ত পর্যটকদের ঢল নামবে। তাই পর্যটকদের চাপ সামলাতে নতুন চারটিসহ মোট ১১ টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

পরিবহন ব্যবসায়ী মোঃ জামাল হোসেন ও প্রদীপ কুমার বলেন, সেতু চালুর আগে ঢাকা থেকে শুধু মোংলায় আসতে পুরো একদিন অর্থাৎ সকাল ৬ টায় ছাড়লে এখানে পৌছাতো বিকেল ৩টা/৪টায়। ১০ ঘন্টা সময় লাগতো। আর ফেরী ঘাটে জটলা থাকলে তা আরো কয়েক ঘন্টা বড়ে পুরো ১২ ঘন্টার মতই সময় লাগতো।এখন সেতু চালু হওয়ায় মাত্র তিন সোয়া তিন ঘন্টায় পরিবহণ মোংলায় চলে আসছে। মোংলায় নামার পর মাত্র ৩০/৪০ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যাবে সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজলে। সুতরাং আগে শুধু ঢাকা থেকে আসতে যে সময় লাগতো সেই সময়ের চেয়েও কম সময়ের মধ্যেই ঢাকা থেকে মোংলা হয়ে সুন্দরবন ঘুরে ঢাকায়ই ফিরে যেতে পারবেন।

সুন্দরবনের ট্যুরিজম ব্যবসায়ী গোলাম রহমান বিটু বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় অধিকাংশ সময় পর্যটকরা সুন্দরবনে আসতে চাইতো না। এখন যেহেতু পদ্মা সেতু চালু হয়েছে তাই সেই চির চেনা চিত্র একেবারেই পাল্টে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব কমে সহজ হওয়ায় এখন পর্যটকদের আকর্ষনও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় উচ্ছসিত সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয়রাও। তিনি বলেন, সুন্দরবনের কাছেই আমাদের বসবাস। ফলে বন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে আমাদের অনেকেই জড়িত। পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হলে দর্শনার্থীরাও আনন্দ পাবেন।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গ কিলোমিটার। যা সমগ্র সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। এই বনে বাঘ, হরিণ, বানরসহ ৩১৫ প্রজাতির বণ্যপ্রাণী ও সুন্দরী, বাইন, গরানসহ ৩৩৪

প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। মূলত এসব দেখতেই প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় মাঝে মাঝে মৌসুমেও পর্যটকদের ভাটা পড়তো। এখন সেতু চালু হওয়ায় পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হবে চার থেকে পাঁচ গুন।

This post has already been read 1023 times!