Thursday 7th of July 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / পদ্মা সেতু উদ্বোধনে উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে

পদ্মা সেতু উদ্বোধনে উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে

Published at জুন ২১, ২০২২

ড. মো.  হারুনর রশিদ: পদ্মা সেতু উদ্বোধনে দক্ষিণাঞ্চল তথা উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে । উপকূলীয় অঞ্চলে হবে কৃষিসমৃদ্ধ এবং দেশের অন্যতম প্রধান এগ্রোবেইজড শিল্পনগরী। এবং কৃষির আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির কল্যানে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশী  দেশের অর্থনীতিতে বিস্তর প্রভাব ফেলবে। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়াবে খুলনাসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। পদ্মা সেতুর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। যা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানকে উন্নতির দিকে ধাবিত করবে। সারা বাংলাদেশের মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত এই পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন শুভ উদ্বোধনের উৎসব হতে যাচ্ছে। এ উৎসব বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় হবে। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাঙ্খিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।  কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারও ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে কৃষিজাত পন্যের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে। আর উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানীর জন্য বিমানের সুবিধা নিতে হলে ফেরিঘাটেই ঘন্টার পর ঘন্টা এমনকি দিনের পর দিন বসে থাকতে হতো। যেটি অন্তত: কাঁচামালের ক্ষেত্রে সম্ভব না। পদ্মা সেতুর ফলে এ অঞ্চলের কাঁচামাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় বিমান বন্দরে যেতে পারবে। ফলে এখানকার কৃষিজাত পণ্য রপ্তানীর সুযোগ বৃদ্ধি হবে। যেটি জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে। যার ফলে প্রবৃদ্ধির হার  উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি হবে। পৃথিবীর অন্যতম খরস্রোতা পদ্মা নদীর জন্য দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ ঘন্টার পথযাত্রা শেষ হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সূচিত হবে একটি নতুন অধ্যায়। দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক। আর এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে  উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন এক  সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)  দেশের বৃহত্তম বহুবিধ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান দানাশস্য, কন্দাল, ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফল, মসলা, ফুল ইত্যাদির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন বিষয়ে গবেষণা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি মৃত্তিকা এবং শস্য ব্যবস্থাপনা, রোগ বালাই এবং পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, পানি এবং সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, খামার পদ্ধতির উন্নয়ন, শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আর্থ সামাজিক সংশ্লিষ্ট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন এবং পরিমাণ নির্ধারণ বিষয়ে গবেষণা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ খুলনা কেন্দ্রের সার্বিক তত্বাবধান ও পরামর্শে কয়েকজন কৃষকের সাফল্যের কথা তুলে ধরা হলো।

সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততার কারনে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি পতিত থাকে। যে কারনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এসব কৃষি জমিতে বিভিন্ন ফসল ফলানোর জন্য খুলনার কয়রায় একাধিক ফসলের মাঠ পরিক্ষামূলকভাবে তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ । তেমনি একটি ফসল বিনা চাষে আলু চাষ পদ্ধতির সফলতা পায় কৃৃষক । আমার তত্বাবধানে স্থানীয় কৃষকরা বিনা চাষে আলু রোপনে উৎসাহিত হয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। ফলে এলাকার কৃষকদের মধ্যে বিনাচাষের আলু উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে। তাছাড়া বারি বিটি বেগুন-৪  জাত ইতিমধ্যে  স্থানীয় কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রা উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়নের তিন নম্বর কয়রা গ্রামের কয়েকজন কৃষক ২০২০ সালে বিনা চাষে আলু ও বিটি বেগুন চাষ শুরু করেন। এ অভিনব চাষাবাদ দেখে এলাকার অনেক কৃষক সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শক্রমে বিনা চাষে আলু ও বিটি বেগুন আবাদে ঝুকে পড়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সাইফুল ইসলাম নামে কৃষককে বাগান প্রতিষ্ঠায় সরেজমিন গবেষণা কেন্দ্র, বারি খুলনা সার্বিক পরামর্শ প্রদান করে । সার্বিক পরামর্শ প্রদানে করার ফলে বাগান প্রতিষ্ঠার পর সাইফুলকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বারি মাল্টা -১ জাতের  বাগান সাইফুলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার পাশাপাশী ঐ এলাকার জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

অপরদিকে আরেক কৃষক কলারোয়া উপজেলার বাটরা গ্রামের কৃষক  বারি গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উদ্যোক্তা মোঃ আলিম এর সাফল্য।গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উদ্যোক্তা মোঃ আলিম এর সফলতা পাওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে তালার নারঘাটা,বাটরা ,কামারখালী সহ  বিভিন্ন চাষীদের।কলারোয়া উপজেলার বাঁটরা গ্রামের কৃষকদের মধ্যো টমেটো চাষের আগ্রহ চরমে, অসময়ে টমেটো চাষে দাম ভালো পাওয়ায় তাদের আগ্রহ দিন কে দিন বেড়েই চলেছে। গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুন হারে বেড়েছে টমেটো চাষী। তবে অন্যান্য চাষের তুলনায় টমেটো চাষে দ্বিগুন লাভ কিন্তু ব্যয়ও কম নয়, তবুও পিচপা হচ্ছেন না কৃষকেরা ।

বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে কৃষিজমিতে ফসল ফলানোর কথা ভুলতেই বসেছিলেন আমাদের উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা । কৃষি গবেষণা বিভাগ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করার ফলে পাল্টে গেছে লবণাক্ত এলাকার কৃষি উৎপাদনের সেই চিত্র । দেশের দক্ষিণাঞ্চল মানেই যেন সারি সারি চিংড়ি ঘের। দেশের প্রায় ২৫% এলাকা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকা। লবণাক্ততার কারণে এ এলাকায় সারা বছরে একটি ফসল হতো। আমন ধান তোলার পর বছরের বাকি সময়টা মাঠের পর মাঠ জমি অলস পড়ে থাকত। এই প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে বছরে কীভাবে দুইবার বা তিনবার ফসল চাষ করা যায়- সেলক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে আসছি। ইতোমধ্যে অনেক সাফল্য এসেছে। এটিকে আরো সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যাতে এ এলাকায় সারা বছর ধরে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায়।

এই অঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় ফসল উৎপাদনের বিষয়টি একসময় কল্পনাও করা যেত না। আর এখন সেই উপকূলীয় এলাকার চাষিদের পতিত লবণাক্ত জমিতেই  আবাদ করেছেন  তরমুজ, সরিষা, লবণাক্ততাসহিষ্ণু পাট,গ্রীষ্মকালীন টমেটো,ভুট্টা ঘেরের আইলে আগাম সীম চাষ, অফসিজন তরমুজ চাষ  ,ডাল, আলু, ভুট্টা, বার্লি, সূর্যমুখী, শাকসবজিসহ অনেক ফসলের লবণাক্ততাসহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবনে করতে সক্ষম হয়েছি। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উপকূলবর্তী বিপুল এলাকার সকল চাষীদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান আছে। পদ্মা সেতু  উন্মোচন হলে রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের । ফলে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত করতে পারবে । কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সরাসরি রাজধানীসহ সারাদেশে সহজে পৌছে যাবে । ইতিমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে কৃষির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির কল্যানে। আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির কল্যানে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশী  দেশের অর্থনীতিতে বিস্তর প্রভাব ফেলবে। সংগত কারনেই দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় কৃষি  উৎপাদনে নতুন করে  বিপ্লব ঘটবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট ৮৪ লাখ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ হেক্টর জমি। এ জমির প্রায় অর্ধেকই লবণাক্ত। মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ ১৮টি জেলার ৯৩টি উপজেলায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর, যা গত এক দশকের তুলনায় ২৩ হাজার হেক্টর বেড়েছে। আর ১৯৭৩ সালে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর। এই হিসেবে ক্রমাগত লবণাক্ত জমির পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু লবণাক্ত জমিকেই এখন আনা হয়েছে  চাষাবাদের আওতায়। উপকূলীয় বিস্তীর্ণ  লবণাক্ত এলাকার   বিশাল এই জমি এখন চাষাবাদের আওতায়। লবণাক্ত জমি চাষাবাদের উপযুক্ত হওয়ায় বেড়েছে কৃষি উৎপাদন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষির উন্নয়নে সরকার ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। ২০১৪ সালে নেওয়া এ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকারভুক্ত খাত হিসেবে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পুষ্টি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, কৃষি বাণিজ্য, কৃষি ঋণ, কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫৭ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, উপকূলীয় এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ২৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর, এর মধ্যে চাষযোগ্য ২১ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর। আর লবণাক্ত এলাকার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর। এছাড়া লবণ পানির ভয়াবহতার কারণে প্রতিবছর শুষ্ক মওসুমে উপকূলীয় এলাকায় ৫ লক্ষাধিক হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যায়। ডিসেম্বরের মধ্যে পানি সরে যায় এমন জমিতে উপযোগী জাতের রোপা আমনের আবাদ করে জমির জো অবস্থার আগে আমন ফসল কর্তন করে বিভিন্ন রবি ফসল আলু, গম, ভুট্রা,সুর্যমুখি,বেগুন, শাকসবজি আবাদ করা সম্ভব। উচ্চফলনশীল এবং লবণাক্ততা সহনশীল বোরো ধানের জাত ব্রি ধান ৬৭, ব্রি ধান৯৭, ব্রি ধান৯৯ এবং বিনাধান-১০, বিনাধান-১৩ এর আবাদ সম্প্রসারণ করা যায়। রোপা আমনের সাথে রিলে সরিষা (বারি সরিষা- ১৪, ১৫,১৭,১৮,১৯,২০) অথবা রিলে খেসারি (বারি খেসারী) চাষের মাধ্যমে আবাদ ও ফলন বাড়ানো সম্ভব। বেড তৈরি (মিষ্টিকুমড়া ও তরমুজ) ও মালচ (আলু) ব্যবহার করে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আবাদ বাড়ানো সম্ভব।

লেখক: উপ প্রকল্প পরিচালক দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল পরিবেশ প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করনের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা,সরেজমিন গবেষণা বিভাগ,বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনা।

This post has already been read 405 times!