Friday 27th of May 2022
Home / পোলট্রি / ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

Published at মার্চ ১০, ২০২২

ডা. মো. . ছালেক : ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর কৃত্রিমভাবে তাপ প্রদান করার মাধ্যমে বাচ্চা লালন-পালন করার ব্যবস্থাকে ব্রুডিং বলে। বাচ্চাদের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং বড় করা ব্রুডিং এর প্রধান উদ্দেশ্য। ব্রুডিং এর সময় নির্দিষ্ট মাত্রায় যে তাপ সরবরাহ করা হয় তাকে ব্রুডিং তাপমাত্রা এবং যে যন্ত্রের মাধ্যমে তাপ প্রদান করা হয় তাকে  ব্রুডার  বলে।  ব্রয়লার  বাচ্চাগুলোকে ঋতুভেদে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ব্রুডিং করা হয় যাতে তারা আরামবোধ করে এবং নিরাপদ থাকে।

ব্রুডিং এর উদ্দেশ্য-

  • বাচ্চাকে কাক্সিক্ষত তাপ প্রদান করা।
  • ধকল থেকে বাচ্চাকে রক্ষা করা।
  • বাচ্চার খাদ্য ও পানি গ্রহণ নিশ্চিত করা।
  • বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
  • বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
  • টিকার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।

ব্রুডিং এর গুরুত্ব

সাধারণত হ্যাচারিতে ডিম থেকে ফুটে বের হওয়ার পর বাচ্চাগুলো নিজেদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে জন্য ব্রুডিং দ্বারা তাপ প্রদান করা জরুরি। সাধারণত বাচ্চাগুলো ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করে।

বাচ্চাগুলোর পেটে অবস্থিত ডিমের কুসুমের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে। দেখা গেছে ৪০ গ্রাম ওজনের একটি সদ্য ফোটা বাচ্চার পেটে ৪ গ্রাম পরিমাণ কুসুম থাকে। যদি সঠিকভাবে ব্রুডিং, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে ৩-৪ দিনের মধ্যেই কুসুমের পুরোটাই দেহে শোষিত হয়। ব্রুডিং ও খাদ্য প্রদানে অবহেলা হলে বাচ্চার পেটে

৪ দিন পরও কুসুম থাকে এবং পরবর্তী সময়ে এই কুসুম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। কুসুম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে বাচ্চাগুলোর দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং খামারের লোকসান হয়।

ব্রয়লার বাচ্চার ব্রুডিং প্রস্তুতি

ব্রুডিং সম্পন্ন করার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে হবে।

  • শেডের অভ্যন্তÍরের দেয়াল চুনকাম করতে হবে।
  • শেডের ভেতরে এবং বাইরে ভালভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ধুয়ে মুছে চুন ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • ব্রুডিং এর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, খাদ্যপাত্র, পানির পাত্র, ব্রুডার, চিকগার্ড, তুষ ইত্যাদি ভালভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
  • শেডের মেঝে যদি কাঁচা হয় তা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জীবাণুনাশক- যেমন ৯ লিটার পানিতে ১ লিটার ফরমালিন দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • শেডের পর্দা বন্ধ রাখতে হবে। শুধু ওপরের দিকে এক ফুট খোলা থাকবে।
  • শেডের মেঝে শুকিয়ে গেলে তার ওপর নতুন তুষ বিছিয়ে দিতে হবে।
  • তুষের উপরে কাগজ বিছিয়ে দিতে হবে, তার উপর খাবার ও পানির পাত্র নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করতে হবে।
  • ব্রুডার এমনভাবে ঝোলাতে হবে যেন প্রয়োজনে উঠানো বা নামানো যায়।
  • ব্রুডার সব লাইট কাজ করছে কিনা তা ভালভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
  • চিকগার্ড দিয়ে ব্রুডার, খাদ্য পাত্র, পানির পাত্র ঘিরে দিতে হবে।
  • শেডের বাইরে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি পাত্র ঘিরে দিতে হবে।
  • বাচ্চা তোলার আগে থেকেই ফুটবাথটি ব্যবহার করতে হবে।
  • শেডের ভেতরে তাপমাত্রা মাপার জন্য শেডের চার কোনায় এবং মাঝখানে থার্মোমিটার স্থাপন করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, ঘরের তাপমাত্রা কত আছে।
  • বাচ্চা তোলার ১ দিন অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা আগে থেকেই ব্রুডার জ্বালিয়ে রেখে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। ব্রুডারের তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। অবশ্যই সেখানে তাপমাত্রা ৩৪০০ সেলসিয়াস (৯৩০০ ফারেনহাইট) রাখতে হবে।
  • শেডের পর্দা (যেমন- পলিথিন) বন্ধ করে পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (পটাস) এবং ফরমালিন মিশিয়ে ফিউমিগেশন করতে হবে। কারণ এটি ঢালার সঙ্গে সঙ্গেই ফরমালডিহাইড ধোঁয়া সৃষ্টি হবে। এই ধোঁয়া যেন চোখে না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এভাবে শেডের দরজা ও পর্দা ২৪ ঘন্টা বন্ধ রাখতে হবে।

ব্রুডিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

  • আধুনিক হ্যাচারি থেকে সুস্থ ও ভাল মানের উন্নত জাতের ব্রয়লার বাচ্চা সংগ্রহ করা।
  • সঠিকভাবে ব্রুডিং সম্পন্ন করার জন্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
  • বাচ্চার ব্রুডিং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
  • আধুনিক ও উন্নত জাতের ব্রুডিং (যেমনঃ গ্যাস ব্রুডিং) ব্যবহার করা।
  • ব্রুডিং এর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি যেমনঃ বাচ্চার খাদ্যের পাত্র (ফিডার), পানির পাত্র (ড্রিংকার), লিটার  (তুষ),  থার্মোমিটার,  চিকগার্ড  ইত্যাদি  সংগ্রহ  করা  এবং যথাযথভাবে স্থাপন করা।
  • উন্নতমানের খাদ্য, নিরাপদ পানি এবং ভালমানের টিকা প্রদান নিশ্চিত করা।
  • খামারে জীব নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) ব্যবস্থা জোরদার করা
  • সর্বোপরি, ব্রয়লার খামারে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ প্রদান করা।

লেখক: চীফ টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার, এসিআই এনিম্যাল হেলথ।

This post has already been read 2151 times!