Monday 16th of May 2022
Home / আঞ্চলিক কৃষি / ঈশ্বরদীতে রোপা আমন ধানের (ব্রিধান-৮৭) নমুনা শস্য কর্তন উৎসব ও মাঠ দিবস

ঈশ্বরদীতে রোপা আমন ধানের (ব্রিধান-৮৭) নমুনা শস্য কর্তন উৎসব ও মাঠ দিবস

Published at অক্টোবর ২৯, ২০২১

আশিষ তরফদার (পাবনা) : খরিফ-২ মৌসুমের রোপা আমন প্রদর্শনীর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঈশ্বরদীতে ব্রি ধান-৮৭ নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতের আওতায় ইস্তা গ্রামে উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

পাবনাস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: আব্দুল কাদের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস। মূখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহ।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, রোপা আমন প্রদর্শনীর প্রচার ও সম্প্রসারণের বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রি ধান-৮৭ জাতটি পরিচিতি, জাতের বৈশিষ্ট্য ,জীবনকাল, চাষবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত  আলোচনা করেন।

মূখ্য আলোচক হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহ বক্তব্যে বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে খাদ্য উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, তাই সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে সঠিক জাতের আবাদ করে ভাগ্য পরিবর্তনের কৃষকদের কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ৬০ হেক্টের জমিতে আমন ধানের উৎপাদন হয়। ফলন বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব বাজেটের আওতায় বি-ধান-৮৭ সহ উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন ফসলের প্রর্দশীর দেয়া চচ্ছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহনের মাধ্যমে অধিক উৎপাদনের দ্বারা আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে উপস্থিত কৃষক -কিষানীদের উদাত্ত আহবান জানান।

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস বক্তব্যে বলেন, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চল। দেশের কৃষিতে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের ব্যাপক অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। তাই এ অঞ্চলের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে দেশের কৃষি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সময় এ অঞ্চলের বিভিন্ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন,ঈশ্বরদীর বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহা পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমজাদ হোসেন, বগুড়া অঞ্চল এর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো.ইউসুফ রানা মন্ডল, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নায়েব আলী বিশ্বাস,উপজেলা নির্বাহী অফিসার পি.এম ইমরুল কায়েস।

এছাড়াও অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন পাবনা কৃষি তথ্য সার্ভিস,আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ প্রশান্ত কুমার সরকার,পাবনাস্থ সকল উপজেলা কৃষি অফিসার বৃন্দ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার বৃন্দ, কৃষি তথ্য সার্ভিস আঞ্চলিক অফিস পাবনার সহকারী তথ্য অফিসার (অ:দা), এআইসিও এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ,উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে র্কমরত উপসহকারী কৃষি র্কমর্কতাগণ।

অনুষ্ঠান শুরুতে ব্রি-ধান-৮৭ জাতের প্রদর্শনী প্লটের ধান আগত চাষীদের দেখানো হয় এবং প্রদর্শণী প্লটের ধান নমুণা কর্তন করে ঝাড়াই-মাড়াই শেষে হেক্টর প্রতি প্রায় ৬.২-৬.৭ মে.টন ফলন রেকর্ড করা হয়। আগত চাষীদের সকলেই এ জাতটি আবাদের সম্মতি জ্ঞাপন করেন। মাঠ দিবসে প্রায় ২০০ জন কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চলনায় ছিলেন পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল লতিফ।

This post has already been read 563 times!