Wednesday 18th of May 2022
Home / অন্যান্য / বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ধর্মনিরপেক্ষ –কৃষি মন্ত্রী

বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ধর্মনিরপেক্ষ –কৃষি মন্ত্রী

Published at ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ম নিয়ে রাজনীতি অনেকেই করে, তবে বর্তমান বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ধর্মনিরপেক্ষ। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির শামসুর রহমান মিলনায়তনে একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নূরুন নবী’র ‘অনিবার্য মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের যুদ্ধাপরাধ ও প্রেসিডেন্ট নিক্সন-ড.কিসিঞ্জারের দায়’ এই বই দুটির প্রকাশনা উৎসবে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি এসব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাধারণ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানান। তাঁর সেই ডাকে মানুষের সর্বোচ্চ ত্যাগ জীবন দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন আপামর জনগণ।

তিনি বলেন, সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা ৫২র ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আন্দোলনে রুপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের উপাদান সংরক্ষণ করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন,  মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের দায়িত্ব হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। এগুলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই এসব উপাদান সংরক্ষণ করতে হবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে জানতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযদ্ধের ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারবেনা। বঙ্গবন্ধু কালজয়ী এটা চিরন্তন সত্যহয়ে থাকবেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হয় তো বা আগামী ১০/২০ বছর পর আর কেউই বেঁচে থাকবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান, তাদের বীরত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা চিরন্তন ও চির অবদান হয়ে থাকবে। এ সময় লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে গবেষণা করার আহ্বান জানান ড. রাজ্জাক। তিনি বলেন, এতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে, নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করতে পারবে। আর তাহলেই দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। এসময় মন্ত্রী পদ্মাসেতুসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র এখনো সক্রীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিতে। অতীতেও এ চক্রটি আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বারবার বদলানোর অপচেষ্টা করেছে। সাময়িকভাবে এ চেষ্টা সফল হলেও চূড়ান্তভাবে তারা পরাস্ত হয়। কারণ ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে। কেউ তা বদলাতে পারে না, বরং যারা এ অপচেষ্টা করে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

উল্লেখ্য; লেখক ড. নূরুন নবীকে নিপুণ সমরকৌশলের জন্য তাঁকে বলা হতো ‘দ্য ব্রেইন’। কাদেরিয়া বাহিনীর অন্যতম যোদ্ধা সেই মানুষটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্লেইনসবরো শহরের কাউন্সিলর। তাঁর আরেক কীর্তি কোলগেট টোটাল’-এর সহ-উদ্ভাবক।

২৬ মার্চ, ১৯৭১। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে ব্যারিকেড দেয় পাকিস্তানি মিলিটারি। মিছিল নিয়ে সে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন প্রতিবাদী ছাত্ররা। সঙ্গে সঙ্গে  পাকিস্তানি সেনাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন লেখক নূরুন নবী।
তিনি যুদ্ধ পরিকল্পনা ও বার্তাবাহকের কাজে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় কমান্ডারদের মধ্যে বহুবার যোগাযোগের কাজ করেছেন। সম্মুখযুদ্ধে জীবন বাজি রেখেছেন অনেকবার। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রের জোগান দিতে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতেও গেছেন বেশ কয়েকবার।

১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কোলগেট-পামঅলিভ কম্পানির গবেষণাগারে যোগ দেন ড. নূরুন নবী, একজন মলিকুলার বিজ্ঞানী। অল্প সময়েই পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান ওরাল কেয়ার রিসার্চের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর অব টেকনোলজি। তার কজের ক্ষেত্র অনেক, পাশাপাশি রয়েছে ৫০টির বেশি গবেষণা। কোলগেট টোটাল’-এর সহ-উদ্ভাবক। কোলগেট-পামঅলিভ কম্পানির সঙ্গে দীর্ঘ ২২ বছর কাজ করার পরে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন।

লেখক বেলাল বেগ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীত আলোচকবৃন্দ ছিলেন কবি ও সচিব ফারুক হোসেন; সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম; লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক; কবি সৈয়দ আল ফারুক; কবির সহধর্মীনি জিনাত নবী এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী।

This post has already been read 1091 times!