Friday 27th of May 2022
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / উদ্ভাবিত মানসম্মত বীজ যেন চাষিদের জমিতে যায় -কৃষিমন্ত্রী

উদ্ভাবিত মানসম্মত বীজ যেন চাষিদের জমিতে যায় -কৃষিমন্ত্রী

Published at জুন ২৮, ২০১৯

ঢাকা সংবাদদাতা: কৃষিকে লাভবান করতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে বীজ বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। আর এজন্য অবশ্যই ভালো বীজ ব্যবহার করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা যেন ভালো মানের বীজ ব্যবহার করে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। শুক্রবার (২৮ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) চত্বরে জাতীয় বীজ মেলার উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এম.পি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করছে। এ জাতের যে উৎপাদনশীলতা তা যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে অবশ্যই ভালো বীজ লাগবে। গবেষকরা যে বীজটা উদ্ভাবন করলো, সে বীজ যেন একদম ঐ মান নিয়েই চাষির জমিতে যায়। সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা গ্রাম এবং শহরের ধনী ও গরীবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে চাচ্ছি। কৃষি যদি উন্নত ও আধুনিক হয়। কৃষি করে যদি চাষিরা লাভবান হয় এবং কৃষিকে যদি বাণিজ্যিকীকরণ করতে পারি, তাহলে কৃষি মূল জীবিকা হিসেবে বাংলাদেশে চিরদিনই থাকবে। ধানের দামের বিষয় উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এবার ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছে। ফলে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারছে না। আগামী দিন ধান করে কৃষককে কোনে সমস্যায় পড়তে হবে না। কৃষক ধান করে যদি দাম না পান তাহলে ধান কেনো করবেন। তাই আমরা সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি যেন আগামী বোরো মৌসুম থেকে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পায় ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, খুব শীঘ্রই পূর্বাচলে দুই একর জমির উপরে আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং শাকসবজি প্রসেসিং জোন করা হবে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আসা যে কোনো সবজির মান পরীক্ষা করা যাবে এবং সাথে সাথেই সবজি বাজারজাতকরণে সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন। এতে করে কৃষকের ভোগান্তি কমবে। ‘খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে মানসম্মত বীজের ব্যবহার’ প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনব্যাপি জাতীয় বীজ মেলা শুরু হয়েছে। তৃতীয় বারের মতো জাতীয় বীজ মেলায় ১১টি সরকারি ও ২২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। এ মেলার আয়োজন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ফসলের বীজ সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য জানার পাশাপাশি বীজ কিনতেও পারবেন।

মেলা উদ্বোধন ও পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বিএআরসি অডিটেরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক আশ্রাফ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সাবেক কৃষি সচিব আনোয়র ফারুক এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া।

This post has already been read 1358 times!