Tuesday 23rd of April 2024
Home / অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য / দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে লাল তীর

দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে লাল তীর

Published at জানুয়ারি ২০, ২০১৯

মো. খোরশেদ আলম (জুয়েল): ফসল উৎপাদনের আশায় যত ভালো সার, কীটনাশকই ব্যবহার করা হোকনা কেন,ভালো মানের বীজ না হলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব না। কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদনের প্রধান নিয়ামক ভালো মানের বীজ। কারণ, বীজের মাধ্যমেই সবকিছুর সৃষ্টি। তাই লাল তীর সবসময় ভালো মানের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যাপারে তীক্ষ্ণ নজর রাখে। তাই লাল তীরের বীজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে।

শনিবার (১৯ জানুয়ারি) গাজীপুর মহানগরের বাসন এলাকায় লাল তীর বীজ উৎপাদন কারখানা ও গবেষণা কেন্দ্রে ছয় দিনব্যাপী ‘লাল তীর ডে’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন লাল তীর লিমিটেড -এর চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, লালতীর কেবলমাত্র ব্যবসা নয়, পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, কৃষক ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখছে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাবকে প্রশমিত করার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও চলতি এবং নিকট ভবিষ্যতে জলবায়ুর অবশ্যম্ভাবী ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে লালতীর সীড লিমিটেড -এর গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি) বিভাগ বিরামহীনভাবে নেদারল্যান্ড এর সল্ট ফাউন্ডেশন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল লবনাক্ত এলাকায় লবনাক্ত সহিষ্ণু ফসল ও সবজিজাত মূল্যায়ন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সমনি¦তভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা যায় জানান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ।

‘লাল তীর ডে’ আয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের বীজ জগতে লাল তীর অপ্রতিদ্বন্দী কোম্পানি। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কৃষি গবেষকগণ যাতে আমাদের বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ব্যবহারিক ধারনা পেতে পারেন সেজন্য আমাদের এই আয়োজন। এছাড়া লাল তীরের ডিলারদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয় এখানে।

লাল তীর লিমিটেড –এর পরিচালক তাজওয়ার এম আউয়াল বলেন, কৃষি যত উন্নয়ন হবে বাংলাদেশ তত গড়ে ‍উঠবে। কৃষকরা লাভবান হলে দেশও লাভবান হবে। তাই দেশের কৃষকরা যাতে লাভবান সেটি মাথায় রেখে লাল তীর সবসময় গুণগত মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহের চেষ্টা করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত মি. সোনম তাবদেন রাবগি, সিরডাপ এর মহাপরিচালক তেভিতা জি. বসিওয়াকা, ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার মি. কানবার হোসাইন বর, নেদারল্যান্ড অ্যামবাসির ফুড সিকিউরিটি বিভাগের ফার্স্ট সেক্রেটারি মি. দার্ক এ্যাদেমা, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র এডভাইজর মি. ওসমান হারুনি, সিরডাপ-এর মহাপরিচালক মি. তেভিতা জি. বসিওয়াকা তাগিনা ভুলাউ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ছাড়া লাল তীরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, লালতীরের সফলতা বীজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বে পোঁছাছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ/দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নেপালে একটি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে কোম্পানীটি ওমান, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, উগান্ডা, ফিলিপাইন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালিতে হাইব্রীড বীজ রপ্তানি করছে।

২০১৭ সালে এশিয়া মহাদেশের এসব দেশে ১২ মেট্রিক টন সব্জি বীজ রপ্তানি হয়েছে, যার মূল্য পাঁচ কোটি টাকা। ২০১৬ সালেও ওইসব দেশে সাড়ে তিন কোটি টাকার নয় মেট্রিক টন বীজ রপ্তানি হয়েছে।

উল্লেখ্য,  বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বৃহত্তম বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লালতীর সীড লিমিটেড মাল্টিমোড গ্রুপ এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান যা ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সারা দেশব্যাপী কোম্পানিটি ১০টি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র, জেলা পর্যায়ে ২৪টি বিক্রয় অফিস এবং দেশব্যাপী ১২০০ ডিলার রয়েছে।

লালতীরের উৎপাদিত বীজ সমূহের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ধান, গম, ভুট্টা, পাট, তুলা, তৈলবীজ এবং ডাল জাতীয় ফসল অন্যতম।

কোম্পানীটি এ পর্যন্ত ৩৩টি সবজির ১৭৫টি জাত উৎদ্ভাবন করেছে যার মধ্যে ৭৫টি হাইব্রিড এবং ১০০টি উচ্চফলনশীল। এছাড়া ধানের ৯টি হাইব্রিড ও ৫টি উচ্ছফলনশীল জাত, ভুট্টার ৩টি হাইব্রিড, তুলার ২টি হাইব্রীড, ফুলের ৩টি হাইব্রিড এবং পাট, আলু, সরিষা, মুগ ও মুশুরির ২টি জাত বাজারজাত করছে।

 

This post has already been read 2284 times!