Saturday 4th of February 2023
Home / পোলট্রি / পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান

পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান

Published at আগস্ট ৩১, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোল্ট্রি ব্যবসা এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে। সাধারণ খামারি থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রত্যেকেই লোকসানের জালে আটকা পড়েছে। কর ও শুল্কের বোঝা প্রতিবছরই বাড়ছে। এবছর আরও দু’টি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, একটি বিএসটিআই এর বাধ্যতামূলক মানসনদ এবং অপরটি হচ্ছে পোল্ট্রি ও ফিস ফিড মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগের বাধ্যতামূলক ব্যবহার। জনাব অঞ্জন বলেন, প্রান্তিক খামারিদের বাঁচাতে হবে এবং সেজন্য তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে তাহলে আমাদের খামারিরাই অত্যন্ত উন্নতমানের ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদন করতে পারবে। মূলত: সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প। তাই পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে।

আগামী বছরের মার্চ মাসে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউ.পি.এস.এ) এবং বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে দেশের পোলট্রি শিল্পের মেগা আয়োজন ‘১১তম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো ও সেমিনার-২০১৯’। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত কথাগুলো ওয়াপসা-বিবি’র সভাপতি এবং বিপিআইসিসি’র সহ-সভাপতি শামসুল আরেফীন খালেদ (অঞ্জন)।

তিনি বলেন, ঢাকা শো’টি এ উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় এবং কার্যকর শো। এবারের পোল্ট্রি শো’তে বিশ্বের ১০ থেকে ১৫ জন টপ মোস্ট রিসার্চারকে পেপার প্রেজেন্টেশনের জন্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের স্লোগান ‘পোল্ট্রি ফর হেলদি লিভিং’। আমাদের দেশের স্বল্প শিক্ষিত কিংবা নিরক্ষর খামারিদের অনেকেই বই পড়ে খামার ব্যবস্থাপনা বুঝতে পারেন না তাই এবার আমরা চিত্র-নির্ভর ম্যানুয়াল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। এমনকি মডেল খামার তৈরির মাধ্যমে খামারিদের হাতে-কলমে শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছি। জনাব অঞ্জন বলেন- মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই এই তিনটি ক্ষেত্রেই পোল্ট্রি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জনাব অঞ্জন আরও বলেন, ইদানিং দেখা যাচ্ছে সেক্টরের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু দেশীয় কোম্পানি বিদেশী কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের সাথে মিলে বিক্ষিপ্তভাবে পোল্ট্রি প্রদর্শনী ও সেমিনারের আয়োজন করছে। প্রদর্শনীগুলোতে উচ্চহারে স্টলের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আপাত বিচারে দেখা যাচ্ছে মুনাফা লুটাই এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য কারণ এ ধরনের আয়োজন থেকে উপার্জিত অর্থের একটি পয়সাও বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছেনা। অথচ ডব্লিউ.পি.এস.এ-বাংলাদেশ শাখা ‘আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার’ থেকে যে আয় করেছে তার পুরোটাই খরচ করা হচ্ছে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে।

তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে প্রচুর কাজ করতে হবে, এজন্য প্রচুর অর্থেরও প্রয়োজন। তাই অন্য কোন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রদর্শনীকে ‘না’ বলাই ভালো। এবারের আয়োজনের সাথে বিপিআইসিসি যুক্ত হয়েছে। যেহেতু বিপিআইসিসি সবগুলো অ্যাসোসিয়েশনের এপেক্স বডি তাই এবার থেকে এ আয়োজনের সাথে প্রত্যেক অ্যাসোসিয়েশন এবং পোল্ট্রি’র প্রতিটি শাখার প্রতিনিধিত্ব থাকবে। নিজেদের স্বার্থেই আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে অন্যথায় নিজেদের কষ্টে বোনা ফসল অন্য কেউ কেটে নিয়ে যাবে।

সভায় সূচনা বক্তব্যে ওয়াপসা-বিবি’র কোষাধ্যক্ষ এবং আয়োজক মিডিয়া কমিটির আহবায়ক ডা. আলী ইমাম আলী ইমাম বলেন, সেমিনার ও মেলা উভয়ক্ষেত্রেই পোল্ট্রি স্টোকহোল্ডারগণ যাতে পরিপূর্ণভাবে অংশ নিতে পারেন সে বিবেচনা থেকেই এবার সেমিনার ও মেলা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এবং ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডব্লিউ.পি.এস.এ -বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হাসান বলেন, এবারের সেমিনারের পেপারগুলো যেন আরও বেশি প্রায়োগিক এবং বাংলাদেশের খামারিদের জন্য সহায়ক হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সাথে পোল্ট্রি মেলাতে এক্সিবিটররা যেন তাদের পণ্য ও সেবার সঠিক ডিসপ্লে ও প্রমোশন করতে পারেন, দেশি-বিদেশি ভিজিটররা যেনো প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখতে পারেন, দেশীয় খামারিরা যেন পোল্ট্রি ওয়ার্ল্ডের সর্বশেষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেন, বিজনেস ডিল করতে পারেন সে বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজ চলছে।

ওয়াপসা-বিবি’র নির্বাহী সদস্য সিরাজুল হক বলেন, দেশে পোল্ট্রি শিল্পের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডব্লিউ.পি.এস.এ -বাংলাদেশ শাখা ১৯৯৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার আয়োজন করে আসছে। তবে এবারের আয়োজনটি পূর্বের যে কোন আয়োজন থেকে আরও বেশি নলেজ-বেজড এবং জমকালো হবে বলে।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ভিজিটরদের সুবিধা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে শুধু মেলাই নয় এবার আরও থাকছে ডিম ও মুরগির মাংসের রেসিপি কনটেস্ট, ডিম-চিকেন সেলফি প্রতিযোগিতা, পোল্ট্রি র‌্যালি, মিডিয়া গেটকিপারদের সাথে মতবিনিময়সহ আরও বেশকিছু আয়োজন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অধিক সংখ্যক মানুষকে এ আয়োজনের সাথে সংযুক্ত করা।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং পোল্ট্রি এবং কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন ও অনলাইনের প্রায় ৪০ জন সংবাদকর্মী ছাড়াও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াপসা-বিবি’র নির্বাহী সদস্য বিপ্লব প্রামানিক, প্রধান আহবায়ক কমিটির বিশেষ সদস্য ডা. এস.এম.এফ.বি আবদুস সবুর প্রমুখ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা, কাজের পরিধি বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের নিরাপদ প্রোটিনের উৎস- ডিম ও মুরগির মাংসের প্রতি সাধারণ ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন এক বাংলাদেশ এবং নতুন এক পোল্ট্রি শিল্প দেখবে বিশ্ব।

উল্লেখ্য, এবার ভিন্ন আঙ্গিকে এবং আরও জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত হবে ১১তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার। পূর্বের বছরগুলোতে ‘পোল্ট্রি শো’ ও ‘সেমিনার’ একই সাথে অনুষ্ঠিত হলেও এবার ৫ ও ৬ মার্চ, ২০১৯ ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউ.পি.এস.এ) বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে ‘ইন্টারন্যাশনাল টেকনিক্যাল সেমিনার’ এবং ৭, ৮ ও ৯ মার্চ ডবিøউ.পি.এস.এ বাংলাদেশ শাখা এবং ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি) এর যৌথ উদ্যোগে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হবে ‘ইন্টারন্যাশনাল পোল্ট্রি শো’। অর্থাৎ সবকিছু মিলিয়ে এবার ৩দিন নয় বরং ৫দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হবে এই মেগা ইভেন্ট।

ঘোষণা:
স্টল বুকিং শুরু : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, সময়: সকাল ১০টা – বিকাল ৫টা। ওরিয়েন্টেশন: সকাল: ৯.৩০টা। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত বুকিং চলবে ডবিøউ.পি.এস.এ বাংলাদেশ শাখার নিকেতন কার্যালয়ে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ পেমেন্ট করতে হবে। ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে স্টল বুকিং দেয়া হবে।

This post has already been read 3675 times!