Saturday 28th of January 2023
Home / পোলট্রি / সোনালী মুরগির ব্রুডিং ও কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা

সোনালী মুরগির ব্রুডিং ও কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা

Published at মার্চ ১১, ২০১৮

কৃষিবিদ মো. মহির উদ্দিন

ব্রুডিং
সদ্য ফোটা মুরগির বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকে তাই পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে মুরগির শরীরের তাপমাত্রাকে সমন্বয় করতে হলে মুরগির শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার সমান থাকতে হয়। এ কারণে মুরগির বাচ্চাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঋতুভেদে ২-৪ সপ্তাহ কৃত্রিমভাবে তাপ দিতে হয়। কৃত্রিম উপায়ে এই তাপ দেয়াকে বলা হয় ব্রুডিং। ব্রুডিং এর উদ্দেশ্য হলো মুরগির বাচ্চার জন্য আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। ব্রুডিং পিরিয়ডের অনিবার্য বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো-
১. কাক্সিক্ষত তাপমাত্রা।
২. বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
৩. বায়ু চলাচল বা ভেন্টিলেশন, এবং
৪. পরিমিত আলোর উপস্থিতি।

ব্রুডিং এর সময় কাঙ্ক্ষিত পরিবেশগত অবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দৈহিক বৃদ্ধি, খাদ্য রুপান্তর হার কমে যাবে এবং রোগবালাই ও মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। ফলে খামারের লাভ কমে যাবে। খামারে পালিত সব জাতের মুরগির জাতের মুরগির ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা প্রায় একই রকম।

কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা
ব্রুডিং পিরিয়ডে বিশেষ করে মুরগির বাচ্চার জীবনের প্রথম দুই সপ্তাহ সঠিক তাপমাত্রা মেইনটেন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক অবস্থায় মুরগির বাচ্চার থার্মোরেগুলেটরী সিস্টেম বা মেটাবলিক প্রসেস পরিপূর্ণভাবে কার্যকর থাকেনা। সদ্য ফোটা মুরগির বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি থাকে। এ কারণে এ সময়ে মুরগির বাচ্চাকে তার দৈহিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই স্বাভাবিক দৈহিক তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য বাহির থেকে তাপ প্রদানের দরকার হয়।

প্রথম সপ্তাহে ব্রুডার হাউজের তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকা দরকার এবং প্রতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি করে কমাতে হবে ৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে না আসা পর্যন্ত। তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য মুরগির বাচ্চার উচ্চতায় থার্মোমিটার স্থাপন করতে হবে। বাচ্চাকে সমভাবে তাপ প্রদান এবং বাচ্চার চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রুডার গার্ড ব্যবহার করতে হবে। বয়স ৩দিন পর থেকে ধীরে ধীরে ব্রুডার গার্ড সরিয়ে স্পেস বাড়াতে হবে এবং বয়স সাধারণত দুই সপ্তাহ হলে ব্রুডার গার্ড সরিয়ে ফেলতে হবে। বাচ্চা শেডে প্রবেশের ৪৮ ঘণ্টা আগেই শেড প্রস্তুত করতে হবে এবং তাপমাত্রা উঠানোর জন্য কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা আগে ব্রুডার চালু করতে হবে।

শেডে বাচ্চা প্রবেশের ২-৩ ঘণ্টা পর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ব্রুডিং হাউজের তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়। যদি মুরগির বাচ্চা তাপের উৎসের কাছাকাছি জড়ো হয় তাহলে বুঝতে হবে আরো তাপ দরকার সেক্ষেত্রে ব্রুডারে অতিরিক্ত বালব্ লাগিয়ে অথবা ব্রুডার গার্ডার একটু ছোট করে দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আবার তাপমাত্রা খুব বেশি হলে বাচ্চা তাপের উৎস থেকে দূরে দূরে থাকবে। সেক্ষেত্রে বালব কমিয়ে বা ব্রুডার গার্ডারের আয়তন বাড়িয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর যদি বাচ্চা ব্রুডার গার্ডের মধ্যে সমভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে স্বতঃস্ফুর্ত চলাচল করে তাহলে বুঝতে হবে তাপমাত্রা সঠিক আছে। অর্থাৎ বাচ্চার আচরণই বলে দিবে তাপমাত্রা বেশি না কম হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ খামারি এটা দেখে সহজেই মুরগির বাচ্চার কাক্সিক্ষত তাপমাত্রা সমন্বয় করতে পারবেন।

মনে রাখতে হবে, ব্রুডিং পিরিয়ডে যদি সঠিক পরিমাণ তাপ প্রদান করা না হয় তাহলে মুরগির ভবিষ্যৎ উৎপাদন দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্রুডিং এর সময় যদি তাপমাত্রা অতিরিক্ত কম বা বেশি হলে মুরগির বাচ্চার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, খাদ্য রূপান্তর হার কমে যায় এবং রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। একদিন বয়সের মুরগির বাচ্চার দৈহিক তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট। যখন বেশি তাপমাত্রা বেশি সময় ধরে পালিত হয় এর ফলে মৃত্যুহার বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যৎ পারফরমেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার যখন কম তাপমাত্রায় থাকলে মুরগির বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ও পরিপাক সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঠান্ডাজনিত ধকলের কারণে মুরগির বাচ্চার বৃদ্ধি কমে যায় রোগবালাইয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ব্রুডিং পিরিয়ডে তাপমাত্রা কম হলে মুরগির বাচ্চার এসাইটিজ নামক মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পারফরমেন্স কমে যায় এবং মৃত্যুহার বেড়ে যায়। কম তাপমাত্রায় ব্রুডিং করলে বাজারজাতকরণের সময় সঠিক ওজনে আসেনা। ব্রুডিং তাপমাত্রা কম হলে শুধুমাত্র দৈহিক বৃদ্ধিই কমে যায় না। দৈহিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে দেহ গরম রাখতে বেশি খাদ্য গ্রহণ করে এর ফলে খাদ্য খরচ বেড়ে যায়। সুতরাং ব্রুডিং পিরিয়ডে একজন খামারির লক্ষ্য হবে একটি আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধের পরিবেশ তৈরি করা যা মুরগির বাচ্চার আচরণ দ্বারা নির্দেশিত হবে।

This post has already been read 8409 times!