Saturday 4th of February 2023
Home / পোলট্রি / পোল্ট্রি সম্পর্কে ভুল ধারণা: প্রাণীজ আমিষের যোগান হুমকির মুখে পড়ার আশংকা

পোল্ট্রি সম্পর্কে ভুল ধারণা: প্রাণীজ আমিষের যোগান হুমকির মুখে পড়ার আশংকা

Published at জানুয়ারি ১২, ২০১৮

চট্টগ্রামে পোল্ট্রি সেক্টরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে ক্যাব’র অ্যাডভোকেসী সভায় বক্তারা
 
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ পোল্ট্রি শিল্প যোগান দিলেও নানা বিভ্রান্তির তথ্য থেকে এ শিল্প রেহাই যেমন পাচ্ছে না। তেমনি পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণীত হলেও বিধিমালা তৈরীসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতায় জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে না দেশের প্রাণী সম্পদ বিভাগ। যার কার কারণে, কিছু মানহীন পোল্ট্রি ফিড বাজারজাত হচ্ছে, খুচরা পোল্ট্রি বিক্রেতারা যত্রতত্র অপরিস্কারাছন্নভাবে পোল্ট্রি জবাই ও বিক্রি করছে। নিরাপদ খাদ্য ও মানহীন পোল্ট্রি বিষয়ে জনমনে এখনও ভ্রান্ত থাকায় এখাতে উদ্যোক্তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে পোল্ট্রি শিল্পে জড়িত উদ্যোক্তা ও খামারীরা দিনের পর দিন লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছে। আর এ শিল্পের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশীয় প্রাণীজ আমিষের যোগান হুমকির মুখে পড়বে।
তাই পোল্টি শিল্পের সাথে জড়িত পোল্ট্রি ফিড, খামারি ও ব্রয়লার উৎপাদকদের নিরাপদ ও মানসম্মত পোল্ট্রি  খাবার, উৎপাদন, সরবরাহ এবং খুচরা পর্যায়ে লাইভ বার্ড বিক্রিতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত, যথাযথ মান নিশ্চিত করতে এখাতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তা-ক্রেতা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ক্যাব যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃহষ্পতিবার (১১ জানুয়ারি) খুলসীস্থ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেসী সভায় উপরোক্ত ​সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
 
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক জসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশ নেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব কেন্দ্রিয় কার্যালয়ের আইবিপি প্রজেক্ট কো-অর্র্ডিনেটর মোস্তফা কামাল, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, জেলা সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিদা আকতার, পাঁচলাইশ থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভুষন দাস, ডবলমুরিং থানা প্র্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিবুল হাসান, সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরেনারী সার্জন ডা. আবুল হাসেম, ভেটেরেনারী সার্জন ডা. সুমি চৌধুরী, ক্যাব চট্টগ্রামের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মশিউর রহমান, ফিল্ড অফিসার শাম্পা কে নাহার ও জিয়াউল হায়দার খান শিহাব প্রমুখ। 
 
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক জসিম সভায় জানান, দেশে পোল্ট্রি শিল্পের ফিড এর মান নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক পরীক্ষার দ্রুত চালুর অপেক্ষায় আছে। এটি পুরোপুরি শুরু হলে আমদানীকৃত ও দেশীয় উৎপাদিত ফিডের মান যাচাই সহজ হবে। তারপরেও চট্টগ্রামে ভেটেরেনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি পরীক্ষাগার চালু আছে যেখানে বর্তমানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ খাদ্য আইন ২০১০ অনুযায়ী লাইসেন্সবিহীন কোন পোল্ট্রি ফিড বাজারে ছাড়তে পারেনা এবং বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলেও লাইসেন্স নিতে হয়। একই সাথে খুচরা বিক্রেতাদেরও লাইসেন্স গ্রহন বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।
 
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় দেশীয় উৎপাদিত ও বিদেশ থেকে আমদানীকৃত এবং খুচরা পোল্ট্রি ফিডের মান তদারকিতে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস ও ক্যাব যৌথ ভাবে মনিটরিং করবে, মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে লাইসেন্সবিহীন ও নিন্মমানের ফিডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোক্তা পর্যায়ে পোল্ট্রি, ব্রয়লার, ডিম, মাছ মাংশ বিষয়ে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে সচেতনতা বিকাশে যৌথভাবে প্রচারণা কর্মসুচি পরিচালনা করবে। ভোক্তাদের কাছে পোল্ট্রি সম্পর্কে সঠিক ধারনা পৌঁছাতে না পারলে প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি মিটানো সম্ভব হবে না, যা দেশের পুষ্টি চাহিদা যোগানে বড় প্রতিবন্ধক হবে। তাই দেশীয় প্রাণীজ আমিষের অভাব দুরীকরণ, পুষ্টির চাহিদা মিটানোর জন্য পোল্ট্রি শিল্পের মান উন্নয়নের পাশাপাশি এ খাতের বিষয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে বৈজ্ঞানিক তথ্য পৌঁছানোর জন্য গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও ভোক্তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। 
 

This post has already been read 4894 times!

One comment

  1. bazar niontron cai notuba khamaridar loss hosca