Saturday 1st of October 2022
Home / অন্যান্য / মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি: স্থবির হয়ে পড়েছে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি: স্থবির হয়ে পড়েছে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম

Published at নভেম্বর ২৯, ২০১৭

মো. আরিফুল ইসলাম (বাকৃবি): বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষকদের দুই প্যানেলের সমঝোতার অভাবে হচ্ছে না নির্বাচন। একটিমাত্র আচরণবিধি নিয়ে দ্বিমতে নয় মাস ধরে আটকে আছে নির্বাচন। এ নিয়ে অনেকবার সভা করার পরও সমঝোতায় আসতে পারেনি দুই প্যানেল। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক সমাজের মাঝে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সিনিয়র শিক্ষকরা। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সোনালীদল অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষক সমিতি গঠনের মধ্যদিয়ে শিক্ষকদের মানমর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষকদের ন্যায়সংগত সকল অধিকার বাস্তবায়নে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বর্তমান প্রচলিত আচরণবিধিতেই নির্বাচনের বিষয়ে আগ্রহী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ মার্চ শিক্ষক সমিতির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কমিটির মেয়াদ নয় মাস পেড়িয়ে গেলেও ব্যালটের ছবি তোলার বিষয়ে সমঝোতায় না আসায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালীদল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের মাঝে সমঝোতার অভাবে আটকে আছে নির্বাচন। তবে পৃথক বিবৃতির মাধ্যেমে ওই দুই শিক্ষক সংগঠন অতিদ্রুত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম এবং সোনালী দলের ৫ জন করে প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এ পর্যন্ত ৮টি সভা করে। কিন্তু তাঁরা এখনও সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেননি। আচরণবিধি ১৩ নিয়ে দ্বিমতের কারণেই আটকে আছে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। ওই আচরণবিধিতে বলা হয়েছে ‘সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচন করার জন্য মোবাইল ফোন, ক্যামেরা বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস দিয়ে ব্যালট পেপারের ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।’

গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে বেশকিছু শিক্ষকের ব্যালটের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ফলে ধারাটি সংযোজিত হয় এবং এ ধারার অধীনে গত কমিটির নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। এদিকে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে ধারাটির সংশোধনের দাবি তোলা হয়। অন্যদিকে সোনালী দল এ ধারাটির পরিবর্তন না করার দাবি জানায়। এ নিয়ে সৃষ্ট দ্বিমতের ফলে নয় মাস ধরে আটকে আছে শিক্ষকদের নির্বাচন। নির্বাচনে কালক্ষেপণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু সিনিয়র শিক্ষক জানান, অল্পকিছু শিক্ষকদের জেদ ও ইগোর ফলে কালক্ষেপণ হচ্ছে যা শিক্ষিত সমাজের কাছে কাম্য নয়। তাঁরা দুই দলকেই অতিদ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনকে সকল বিতর্কের উর্দ্ধে রাখার স্বার্থে ভোটদানকৃত ব্যালটের গোপণীয়তা রক্ষা করতে হবে। ব্যত্যয় হলে প্রো-ভিসির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সর্বশেষ সভার (মেমো নং ৮৩ পত্রের) ৩নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ব্যবস্থা নিবেন। সিদ্ধান্তটি গত নির্বাচনের আচরণবিধি নং-১৩ এর জায়গায় প্রতিস্থাপিত হবে।

অপরদিকে সোনালীদলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম হারুণ-অর রশিদ দাবি করেন, নির্বাচনে গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যালট পেপারের ছবি তোলা যাবেনা এবং এ বিষয়ে বর্তমান এ প্রচলিত নির্বাচনী আচরণবিধির ১৩নং ধারাটি বহাল রাখতে হবে। এছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোন বাধা নেই। এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির বিগত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী অতিদ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত।

This post has already been read 2878 times!