১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৩ জুন ২০২১, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪২
শিরোনাম :

নকলায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পার্চিং উৎসব

Published at ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

নকলা (শেরপুর)সংবাদদাতা: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় বিষমুক্ত শাক-সবজি ও শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্চিং ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদের নিয়ে পার্চিং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ২৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার উপজেলার পাইশকা মোড়ে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় এ উৎসব পালন করা হয়।পার্চিং উৎসবে ‘ভূরদী খন্দকার পাড়াকৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘অগ্নিবীনা ক্ষুদ্র কৃষক আইপিএমক্লাব’র মতো কয়েকটিকৃষক সংগঠনের সদস্য ও তিনশতাধিক কৃষক-কৃষাণি অংশগ্রহণ করেন।

শেরপুর খামার বাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আসাদুল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন এবং অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন খান মুকুল, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, কৃষক জালাল উদ্দিন, হাজী কিতাব আলী ও আব্দুল হালিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, পার্চিং প্রযুক্তি বেশ স্থায়ী হওয়ায় এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত পার্চিং হিসেবে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডালপালা ব্যবহার করা হয়, আর বাংলাদেশে জীবন্ত পার্চিং হিসেবে আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছ ব্যবহার করা হয়। ধৈঞ্চা গাছে পাখি দুল খেতে পছন্দ করে। তাই এই ধৈঞ্চা গাছ অধিক কার্যকরী। অন্যদিকে ধৈঞ্চা গাছের নডিউল, পাতা এবং পাখির বিষ্টা জমিতে জৈব সারের চাহিদা পূরণ করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ফসলের উচ্চতা থেকে কমপক্ষে এক ফুট উচ্চতায় এক মাস বয়সী ধৈঞ্চা গাছ মূল জমিতে রোপন করা উত্তম, তাতে করে পাখি সহজেই বসতে পারে। সাধারনত প্রতি পাঁচ শতাংশ জমির জন্য একটি ধৈঞ্চা গাছ লাগাতে হয়। সে হিসাবে একরে ১৮ থেকে ২০ টি পার্চিং ব্যবহার উত্তম। ওইসব পার্চিংয়ে বসে পাখিগুলো মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, স্কিপার পোকার মথ, লার্ভা বা কীড়ার মধ্যে শিষকাটা লেদা পোকা, সবুজ শুড় লেদা পোকার কীড়া; খাটো শুড় ঘাস ফড়িং, লম্বা শুড় ঘাস ফড়িং, উড়চুঙ্গা খেয়ে ফেলে। তবে কিছু কিছু পাখি লেডি বার্ড বিটল ও ক্যারাবিড বিটলের মতো অনেক উপকারী পোকাও খেয়ে থাকে।

এক তথ্যমতে, একটি ফিঙে সারা দিনে অন্তত ৩০টি করে পোকা, মথ, ডিম, কীড়া ও পুত্তলী খেয়ে থাকে। তাই কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে পার্চিংয়ের কোন বিকল্প নেই। আর তাইতো কৃষি বিভাগ এই প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাড়াতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। নির্মল পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ্য রেখে সবুজ কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সবুজ কৃষি প্রযুক্তির অংশ হিসেবে পার্চিংয়ের কোন বিকল্প নেই। অল্প ব্যয় ও শ্রমে বিষমুক্ত শাক-সবজি, শস্য, ফুল-ফল উৎপাদনে পার্চিং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি প্রযুক্তি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, এ প্রযুক্তিটি মাঠ ফসলে ধীর গতিতে কাজ করলেও এটি পরিবেশ বান্ধব, অধিক কার্যকরী ও স্থায়ীত্বশীল। তাই আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে নকলার কৃষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। সুফল দেখে খুব দ্রুত এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, পার্চিং প্রযুক্তি সারাদেশ ব্যাপী সব ফসলের মাঠে ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মোট শস্য ও ফসলের উৎপাদান কয়েক হাজার মেট্রিকটন  বেড়ে যাবে। এতে পরিবেশ থাকবে সুন্দর, কৃষক হবেন লাভবান, ভোক্তারা পাবেন বিষমুক্ত শাক-সবজি, শস্য ও ফুল-ফল।

This post has already been read 1466 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN