Monday 17th of June 2024
Home / পরিবেশ ও জলবায়ু / ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতংকে উপকূলীয় জনপদের মানুষ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতংকে উপকূলীয় জনপদের মানুষ

Published at অক্টোবর ২৩, ২০২২

ফারুক রহমান (সাতক্ষীরা) : বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সাতক্ষীরায় দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছনসহ গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। নিম্নচাপের প্রভাবে জেলার উপরূলীয় এলাকার নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধিসহ  হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সাথে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশংকা করছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো ঝুর্ণঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন উপকূলবাসী। দূর্বল বেঁড়িবাধ নিয়ে তাদের আতংকে দিন কাটছে তাদের। ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাধ সংস্কারে ইতিমধ্যে পানিউন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় স্থানীয় এলাকাবাসী কয়েকটি স্থানে সংস্কার কাজও অব্যাহত রেখেছেন।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরায় সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। এর প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। সাথে সাথে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া নদ-নদীর পানির স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, আন্দামান সাগরের কাছাকাছি দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গপোসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আগামী ২৫ অক্টোবর সকালে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সকল উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বার দূরবর্তি হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গপোসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে নিরপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতাধীন বিগত ষাটের দশকে নির্মিত ৭৮০ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পয়েন্টে ৮০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বেঁড়িবাধের ভাঙন এড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড পক্ষ ২০ হাজার জিও ব্যাগ মজুদ রেখেছে।

এদিকে, জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, দূর্যোগ মোকাবেলায় উপকুলীয় উপজেলা আশাশুনিতে ১০৮টি ও শ্যামনগরে ১০৩টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং ৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেঁড়িবাধ ভাঙন এড়াতে পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ মজুদ রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, সুপেয় পানিসহ সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

This post has already been read 1156 times!