Saturday 28th of May 2022
Home / পোলট্রি / ব্রয়লার খামারে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

ব্রয়লার খামারে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

Published at মার্চ ২৩, ২০২২

ডা. মো. . ছালেক : ব্রয়লার খামারে জীব-নিরাপত্তা বা বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ব্রয়লার খামারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা বা খামারের জীব নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মুরগির বেশীর ভাগ রোগই খামার ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। ব্রয়লারকে রোগ জীবাণুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখাই হচ্ছে জীব-নিরাপত্তার মূল কথা। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে একদিকে যেমন বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অন্য দিকে মানসম্পন্ন মাংস পাওয়া যায় এবং অধিক লাভবান হওয়া যায়। বিশেষ করে ব্রয়লারের ক্ষেত্রে যদি খামারে একবার রোগ দেখা দেয় তাহলে যে  মুরগিগুলো  জীবিত  থাকে  তাদের  দৈহিক  ওজন  আশানুরূপ  পাওয়া  যায়  না।

স্বাস্থ্যসম্পন্ন খামার ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো নিম্নে তালিকাবদ্ধ করা হলো-

১. জীবাণুনাশক দিয়ে শেডের জীবাণু ধ্বংস করা। খামারে নতুন বাচ্চা উঠানোর আগে খামার সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম পানি দ্বারা খামার পরিষ্কার করে পরবর্তীতে পানির সাথে কার্যকরী জীবাণুনাশক মিশিয়ে খামার জীবাণুমুক্ত করা যায়।

২. হ্যাচারি থেকে সুস্থ সবল বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। কেননা কিছু কিছু রোগ আছে

যেগুলো হ্যাচারি থেকে ডিমের মাধ্যমে বাচ্চাতে আসতে পারে এবং কিছু দিনের মধ্যে খামারে রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন- সাল্মোনেলোসিস, মাইকোপ্লাজমোসিস ইত্যাদি হ্যাচারি থেকে খামারে আসতে পারে।

৩. খামারে ভালো খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য যাতে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত আর্দ্রতাযুক্ত না হয়। অতিরিক্ত আর্দ্রতাযুক্ত খাদ্যের মাধ্যমে অ্যাসপারজিলেসিস ও বিষক্রিয়াজনিত জটিল রোগ হতে পারে।

৪. বাইরে থেকে জীবাণু শেডে পৌঁছে যায়। সাধারণত মানুষ, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ ইঁদুর, খাবার, পানি, বাতাস, খাদ্যের ব্যাগ, গাড়ি ইত্যাদির সাথে জীবাণু শেডে পৌঁছে যায়। তবে সবচেয়ে বেশী সংক্রমণ হয় মানুষের দ্বারা।

৫. খামারে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিবার খামারে প্রবেশ করা ও খামার হতে বাহির হওয়ার সময় হাত ও পা অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে আয়োডিন যৌগ (আয়োডিন, পেভিসেপ) বা কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬. ব্রয়লারকে টিকা দিয়ে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করা।

লেখক: চীফ টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার, এসিআই এনিম্যাল হেলথ।

This post has already been read 1968 times!