Wednesday 18th of May 2022
Home / মৎস্য / খুলনা অঞ্চলে কমেছে চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি আয়

খুলনা অঞ্চলে কমেছে চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি আয়

Published at জানুয়ারি ১৫, ২০২০

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে খুলনা অঞ্চলে উৎপাদন কমেছে রপ্তানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ি বাগদা ও গলদার। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জাতীয় রপ্তানিতে দেশের ‘সাদা সোনা’খ্যাত সংশ্লিষ্ট খাতে। ২০১৮ সালের শেষ ৮ মাসের তুলনায় গেল বছরের শেষ ৮ মাসে চার লাখ ডলার মুল্যের কম হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে বিদেশে। তবে খুলনা অঞ্চলের হিমায়িত চিংড়ির নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে চীনে। এখনও বিশ্বের ১৮টি দেশে চিংড়ি রপ্তানি হয় খুলনা থেকে।

সূত্রমতে, মার্চ-এপ্রিলে দাবদাহ, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কখনো অতিবৃষ্টি কখনো অনাবৃষ্টি, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্য প্রবাহ এবং নভেম্বরে (বুলবুল নামের) ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা অঞ্চলে গলদা ও বাগদা চিংড়ির উৎপাদন অনেক কমেছে। ফলে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের লক্ষাধিক চিংড়ি চাষিরা ঋণী হয়ে পড়েছেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র জানান, ২০১৮ সালের মে মাসে এক কোটি ৫৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার, জুন মাসে দুই কোটি ২২ লাখ ১২ হাজার ডলার, জুলাই মাসে দুই কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার, আগস্ট মাসে দুই কোটি ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে দুই কোটি ১৪ লাখ ১৬ হাজার ডলার, অক্টোবর মাসে দুই কোটি ৭২ লাখ ১৯ হাজার ডলার, নভেম্বর মাসে ৮ কোটি ৪০ লাখ এক হাজার ডলার এবং ডিসেম্বর মাসে দুই কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানী হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে এক কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ডলার, জুন মানে এক কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার ডলার, জুলাই মাসে তিন কোটি ৭২লাখ ৩৩ হাজার ডলার, আগস্ট মাসে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ডলার, অক্টোবর মাসে ৩ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার ডলার, নভেম্বর মাসে ২ কোটি ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ডলার এবং ডিসেম্বর মাসে ২ কোটি ৭২ লাখ ৬ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়। যে সব দেশে রপ্তানি হয়েছে তার মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রথম স্থানে এবং নেদারল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল থেকে চিংড়ি কেনা দেশগুলো হচ্ছে- বেলজিয়াম, পুর্তপাল, ফ্রান্স, জার্মানি, সাইপ্রাস, গ্রীস, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, রাশিয়া, জাপান, স্পেন, ইতালি, লিথুনিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেইন ও নরওয়ে।

খুলনা জেলায় গত মৌসুমে ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে ২৫ হাজার ৩৬৩টি বাগদা চিংড়ির ঘেরে ১২ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন বাগদা এবং ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ৪১ হাজার খামারে ১৪ হাজার ৫৮৪ মেট্রিক টন গলদা উৎপাদন হয়।

হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ছবি ফিস প্রোসেসিং লিঃ জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাহবুবুল হক জানান, ইউকে-তে খুলনা অঞ্চলের বাগদা ও গলদার চাহিদা বেশি। জানুয়ারি মাসের প্রথমম সপ্তাহে চীনে নতুন মার্কেট সৃষ্টি হয়েছে। এখানে হিমায়িত বাগদা চিংড়ির চাহিদা বেশি। তার দেয়া তথ্যমতে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রকারভেদে গলদা প্রতি পাউন্ড ১২ থেকে ১৩ ডলার এবং বাগদা প্রকারভেদে প্রতি পাউন্ড ৫ দশমিক ৪০ ডলার থেকে ৯ ডলার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান, জেলায় চিংড়ির পাশাপাশি রামপাল মোংলা ও শরণখোলায় কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। ২০১৮ সালে জেলায় ৬০০ হেক্টর জমিতে ২৬৪৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন কমেছে।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার হেঞ্চি গ্রামের মৎস্য চাষি মনিন্দ্র সাহা বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আমার চিংড়ি ঘেরে ক্ষতি করেছে। গত বছর গরমে (দাবদাহ) ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে চিংড়ি অনেক কম হয়েছে।

বিভাগীয় মৎস্য অধিপ্তরের সূত্রমতে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিংড়ি উৎপাদন থেকে রপ্তানির সাথে সম্পৃক্ত।

This post has already been read 2003 times!