Friday 20th of May 2022
Home / অন্যান্য / মাছরাঙা টিভির ক্যামেরা কেড়ে নিলেন গুদাম কর্মকর্তা

মাছরাঙা টিভির ক্যামেরা কেড়ে নিলেন গুদাম কর্মকর্তা

Published at ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

ফারুক আলম (লালমনিরহাট প্রতিনিধি) : লালমনিরহাট সদর উপজেলায় কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীর ধান সংগ্রহ করার সময় কৃষকদের তথ্য জানতে চাওয়ায় রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের লালমনিরহাট প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলামের  ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে  লাঞ্ছিত করার মত দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটিয়েছেন উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান।

সোমবার দুপুরে (২৪ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় সেখানে ছুটে যান স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম।

সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত জানান, শহরের কালীবাড়িতে অবস্থিত লালমনিরহাট উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান ও তার লোকজন কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করছিলেন। এ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে এর সত্যতা পাই। এ সময় শাহিনুরের কাছে কৃষক কোথায় জানতে চাইলে তিনি আমার উপর রেগেযান। এক পর্যায়ে  আমার কাছে থাকা ক্যামেরাটি ছিনতাই করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছি।

গুদাম কর্তা শাহীনুর রহমান ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি খাদ্য গুদামের কোন তথ্যই সাংবাদিকদের দিতে বাধ্য নন। কোন কৃষকের কাছে ধান ক্রয় করছেন আর কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে করছেন এ তথ্য সাংবাদিককে কেন দিবেন?এমন প্রশ্ন রেখেই বলেন, প্রয়োজনে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিবেন। সাংবাদিকের ক্যামেরা কেন কেড়ে নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে নিরব থাকেন।

লালমনরহাট সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আইয়ুব আলী এ ঘটনার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী সাইফুদ্দিন দেশের বাইরে রয়েছেন।

লালমরিহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম মজনু জানান, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনতাই করে অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গুরুতর অপরাধ করেছেন। খাদ্য বিভাগ অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে লালমনিরহাটের কর্মরত সাংবাদিকরা শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের জানান, তিনি তদন্ত করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করবেন এবং পরে তা খাদ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরন করা হবে।

This post has already been read 1588 times!