Monday 16th of May 2022
Home / প্রাণিসম্পদ / প্রাণিসম্পদ সেক্টর নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে

প্রাণিসম্পদ সেক্টর নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে

Published at অক্টোবর ২৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টর নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। তাই পরস্পরের মাঝে বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়াও নিরাপদ দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের দিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে।   বৃহস্পতিবার (২৪) অক্টোবর বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রী সোসাইটি (BAHS) -এর উদ্যোগে রাজধানীর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন -এ আয়োজিত “Achievement of SDGs Through Livestock Production: Role of Animal Husbandary Gradutates” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানে এনিমেল হাজবেন্ড্রী গ্রাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। ২০৩০ সনের আগে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে গেলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় তাঁরা থানা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মী পদ সৃষ্টির আহ্বান জানান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন কৃষিবিদ মো: গাউস খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনর নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহদাত হোসেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, দেশে চিকিৎসা নির্ভর লাইভস্টক হওয়ার কারণে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়েছে। জাতিকে নিরাপদ খাদ্য উপহার দিতে হলে এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য সরকারি চাকুরিতে এন্ট্রি লেভেলে পোস্ট তৈরি দরকার।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু এমপি বলেন, প্রাণিসম্পদ সেক্টর নিয়ে যেমন ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার চলছে তেমনি এখানে কিছু ভুলও আছে। এ ব্যাপারে সেক্টর সংশ্লিষ্টদের শোধরাতে হবে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় কিছুদিন আগে ‍দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি প্রচারে হতাশা প্রকাশ করেন এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরনের আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ নিয়ে দেশি এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে। সেজন্য সেক্টরের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এদেশেরই কিছু লোক প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে বিদেশ থেকে হিমায়িত মাংস আমদানি করার। ব্রাজিল থেকে পোলট্রি মাংস রপ্তানির চেষ্টা চলছে বহুদিন ধরে। আমরা সরাসরি বলে দিয়েছি, কোন রকম মাংস এদেশে আমদানি করা যাবেনা।

নিরাপদ মাংস ও দুধের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি নিরাপদ খাদ্য মানুষকে খাওয়ানোর। কিছু সমস্যা আছে, সেগুলোও ঠিক হয়ে যাবে, কিছুটা সময় লাগবে, রাতারাতি সবকিছু ঠিক হয়ে যায়না।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’র যতগুলো পয়েন্ট আছে সবগুলোর সাথেই প্রাণিসম্পদ জড়িত। এদেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টর এক সময় অবহেলিত ছিল। কিন্তু এখন আর সে অবস্থানে নেই। আমরা এখন মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পোলট্রিজাত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির চিন্তা করছি। এসবই সেক্টরের অর্জন। কিন্তু এ অর্জন বিফলে যাবে যদি না আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে পারি।

তিনি বলেন, পোলট্রি এবং প্রাণিসম্পদ নিয়ে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এ ব্যাপারে আমাদের যেমন সতর্ক থাকতে হবে তেমনি নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে মনোনিবেশ করতে হবে। সেক্টর নিয়ে অপপ্রচারের জওয়াব যুক্তি দিয়ে মানুষকে বুঝাতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, আমরা যদি নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য তৈরি করতে পারি তবে গার্মেন্টস শিল্পের মতো সারাবিশ্বের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তারা বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ থেকে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী হবে। এজন্য ফিডমিলগুলোতে দক্ষ পুষ্টিবিদ থাকতেই হবে।

তিনি আরো বলেন, সেক্টরের উন্নয়নের জন্য থানা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মী (LEO) সৃষ্টি করা অবশ্যই দরকার। সরকারের সকল কাজের জন্য এই এন্ট্রি লেভেল পোস্ট তৈরি করা দরকার।

বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, আমাদের আয় এবং চাহিদা যেভাবে বাড়ছে তাতে করে আশা করা যায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে পোলট্রি কনজাম্পশন দ্বিগুণ হবে। এক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে ভোক্তাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিভিএম এবং এএইচ গ্রাজুয়েটদের বিদ্যমান বিবাদ ভুলে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এ সময় তিনি।

বাংলাদেশ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী সোসাইটির সভাপতি কৃষিবিদ  মাহাবুব হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট –এর মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার প্রমুখ।

This post has already been read 3459 times!