Friday 19th of April 2024
Home / অন্যান্য / হাবিপ্রবি’তে শিক্ষকদের একাংশের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

হাবিপ্রবি’তে শিক্ষকদের একাংশের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

Published at নভেম্বর ১৫, ২০১৮

হাবিপ্রবি (দিনাজপুর): দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-র ৫৭ জন সদ্য প্রমোশনপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক নগ্নভাবে হামলা ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে প্রশাসন ভবনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। এ সময় সকল শিক্ষকরা মুখে কালো কাপড় ও ডাস্টার পেন্সিল সামনে রেখে প্রতিবাদ করেছে। প্রতিবাদি ব্যানারে শিক্ষকরা শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী, নারী শিক্ষক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানিকারী রেজিষ্টার, প্রক্টর, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার বহিস্কার দাবি করে। শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন বলে জানা যায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রমোশনপ্রাপ্ত ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপকের বেতন প্রচলিত সুবিধার ব্যতয় ঘটায় কোষাধক্ষ্য মহোদয়ের সাথে বিকাল ৩টায় সাক্ষাত করতে সকল শিক্ষক উপস্থিত হই। এ সময় ইনক্রিমেন্ট সংক্রান্ত আইনের ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি এবং হিসাব পরিচালক ব্যাখ্যা দিতে অপারগ হয়। আলোচনা চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরোও কিছু সিনিয়র শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য, এ দাবি শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি। আলোচনার এক পর্যায়ে প্রক্টর ও স্টুডেন্ট এ্ডভাইজার উত্তেজিত হয়ে শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কি এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একই সাথে কোষাধক্ষ্য মহোদয় শিক্ষকদের ধাক্কা দিতে শুরু করেন। কোষাধক্ষ্যের এহেন তৎপরতায় অন্যান্য প্রশাসনের শিক্ষকগণ আরোও চড়াও হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের পালিত কিছু উৎশৃংখল ছাত্র সশস্ত্র (রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক) অবস্থায় আমাদের উপর হামলা করে। এতে করে ১ জন মহিলা শিক্ষক গুরুত্বর আহত ও ২ জন মহিলা শিক্ষক আহত হয়।

অন্যদিকে ৫/৬ জন পুরুষ শিক্ষকও আহত হন। ঘটনার সময় প্রশাসনের শিক্ষক দ্বারা আমাদের মহিলা শিক্ষকদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। উপস্থিত ৫৭ জন শিক্ষককে প্রশাসনের মদদে এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হামলার ঘটনা সত্যিই লজ্জাজনক। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাত করতে গেলে সেখানেও উৎশৃংখল ছাত্ররা বাধা প্রদান করে এবং গেট বন্ধ কর দেয়। উপাচার্য গেটে তারা রামদা, চাপাতি নিয়ে উপাচার্যের পাহাদার হিসেবে আমাদের পথ অবরুদ্ধ করে। এমন ঘটনায় রেজিষ্ট্রার, প্রক্টর ও এডভাইজারের বিচারসহ পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি।

This post has already been read 3156 times!