Sunday 5th of February 2023
Home / খাদ্য-পুষ্টি-স্বাস্থ্য / বেশী বেশী মৌসুমী ফল খান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান

বেশী বেশী মৌসুমী ফল খান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান

Published at মে ২৪, ২০১৮

ইফরান আল রাফি (পবিপ্রবি): বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে প্রকৃতি যখন রুক্ষ তখন প্রকৃতিরাজ্যে দেখা দেয় রসালো সুমিষ্ট আর পুষ্টিগুণে ভরপুর নানা দেশীয় ফল। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, বাঙ্গি, বেলে ইত্যাদি  সহজলভ্য আর পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশীয় ফল আপনাকে যেমন দিবে নানা পুষ্টি উপাদান তেমনি আপনার শরীরকে রাখবে সুস্থ ও সতেজ। কয়েকটি দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ আলোচনা করা হল:

কাঁঠাল: কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃস্ট উৎস। পটাশিয়াম উচ্চ রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। এজন্য কাঁঠালে উচ্চরক্ত চাপের প্রশম হয়। কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন সি । এ ফল খেলে গর্ভবর্তী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবর্তী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য  স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমান বৃদ্ধি  পায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে: 

ভিটামিন এ (মিঃ গ্রাম)-২

ভিটামিন সি (মিঃ গ্রাম)-৩.৪

আয়রন (মিঃ গ্রাম)-০.৩

ক্যালসিয়াম(মিঃ গ্রাম)-১৩

ফাইবার(গ্রাম)-৭.২

এনার্জি (কিঃ ক্যালরী)-৭৪

লিচু: লিচুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসকোরবিক এসিড বা ভিটামিন সি রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ায়।এ ফলে রয়েছে কপার যা শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া এতে থাকা আয়রন নতুন রক্তকোষের জন্ম দেয়। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে নিয়মিত লিচু খেতে পারেন। লিচুতে থাকা প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও স্বল্প সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ রাখে শরীর।এই মৌসুমী রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস,আয়রন, ম্যাংগানিজ ও কপার। এগুলো ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে ও হাড় শক্তিশালী রাখে।

প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে রয়েছে:

ভিটামিন সি (মি:গ্রাম)-১১

আয়রন (মি:গ্রাম)-০.৫

ক্যালসিয়াম(মিঃগ্রাম)-১১

ফাইবার(গ্রাম)-৫.৫

এনার্জি (কিঃক্যালরী)-৬২

তরমুজ: এই গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে তরমুজ খাওয়া চাই নিয়মিত। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ডিহাইড্রেসন থেকে রক্ষা করে আমাদের। পাশাপাশি ভিটামিন এ, সি এবং পটাশিয়াম পাওয়া যায় ফলটি থেকে। আপনি যদি অতিরিক্ত মেদ নিয়ে চিন্তিত  থাকেন তাহলে তরমুজ খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। এতে থাকা পানি ও মিনারেল ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত তরমুজ খেলে ত্বক পরিষ্কার থাকে। ব্রণ ও অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর হয়ে ত্বক থাকে প্রাণবন্ত।

প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে আছে:

ভিটামিন এ (মিঃগ্রাম)-২৯

ভিটামিন সি (মিঃ গ্রাম)-২৩.৯

আয়রন (মিঃ গ্রাম)-০.৪

ক্যালসিয়াম(মিঃ গ্রাম)-১২

ফাইবার(গ্রাম)-০.৪

এনার্জি (কিঃ ক্যালরী)-২২

বাঙ্গি: তরমুজের পর এটিই অধিক প্রচলিত শসাগোত্রীয় ফল। ফলিকন এসিডে পূর্ণ এ ফলটি গর্ভবতীদের জন্য খুবই উপকারী। ছোট বাচ্চাদের মেধাবিকাশের ভূমিকা পালন করে কারণ এ ফলের ফলিক এসিড ও অন্যান্য ভিটামিন মেধাবিকাশে দারুণ সাহায্য করে। শরীরে কাটাছেঁড়া থাকলে বাঙ্গিতে থাকা ভিটামিন সি তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। বাঙ্গির রস এই গরমে আপনাকে দিবে শরীরের সঠিক তাপমাত্রা ও সুস্থ সুন্দর ত্বক।

প্রতি ১০০ গ্রাম আমে রয়েছে:

ভিটামিন এ (মিঃগ্রাম)-৪

ভিটামিন সি (মিঃ গ্রাম)-২৬

ক্যালসিয়াম(মিঃগ্রাম)-২১

ফাইবার(গ্রাম)-০.৮

এনার্জি (কিঃ ক্যালরী)-১৬

তথ্য সূত্র: পুষ্টি বার্তা, পুষ্টি খাদ্য বিজ্ঞান অনুষদ,পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

This post has already been read 1777 times!