মৎস্যচাষীদের সেবাপ্রদান সহজিকরণের উপর কর্মশালা

ফকির শহিদুল ইসলাম(খুলনা): খুলনায় ইনোভেশন ইন কার্যক্রমের আওতায় মৎস্যচাষীদের সেবাপ্রদান সহজিকরণের উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত । কর্মশালা সোমবার (১৬ এপ্রিল) শুরু হয়ে বুধবার (১৮ এপ্রিল) এ কর্মশালা শেষ হয় । ইনোভেশন ইন’র কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার দাকোপ উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজন করা হয় । ইনোভেশন ইন কার্যক্রমের মাধ্যমে মৎস্যচাষীদের সেবাপ্রদান সহজিকরণের উপর দাকোপ সদর ইউনিয়নের রাসখোলা ও সিটাবুনিয়ায় এবং  বাজুয়া ইউনিয়নের ওড়াবুনিয়ায় মৎস্য মাঠ স্কুলের আলোচনা সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ঠ এলাকার মানুষকে ইনোভেশন ইন কার্যক্রমের মাধ্যমে মৎস্যচাষীদের  জ্ঞান প্র্রদান করা হয় ।ইনোভেশন ইন কার্যক্রমের জন্য অভিজ্ঞ কর্মকর্তা দ্বারা ২ দিনের গুড এ্যাকোয়া কালচার প্রাকটিসের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় মৎস্য মাঠ স্কুলের প্রশিক্ষকদের।

সুত্রে জানা যায়, ইনোভেশন ইন কার্যক্রমের জন্য উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ২টি করে মোট ১৮টি মৎস্য মাঠ স্কুল আছে। প্রতিটি স্কুলে মৎস্য চাষীর সংখ্যা ৫০ জন এবং প্রশিক্ষক ২ জন। এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ২ মাস পরপর চাষীদের। এমন আধুনিক কারিগরি উন্নত মাছ সম্পর্কে কার্যক্রমটি সফল ভাবে বাস্তবায়ন হলে সরকারের কোন রকম অর্থ ব্যয় ছাড়া, প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ হাজার চাষী সরাসরি আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবা গ্রহণ করে মাছ চাষের উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে জানায় উপজেলা মৎস্য দপ্তর।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণে মাছ চাষ উপকরণ সামগ্রীর মাধ্যমে মাটি ও পানি পরিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখা করা হয়। ইউনিয়ন লিফদের সহযোগীতায় চাষীদের মাঝে এ কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকেন স্থানীয় প্রশাসন।

মৎস্য মাঠ স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নেই কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ধোপাদি গ্রামের চাষী লিটন জোয়াদ্দার। তিনি বলেন, মাছ চাষে এখন যে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে সেটি অনেক ভালো। আগে চাষ করতে হলে তেমন কোন কৌশল জানা ছিলো না। এর জন্য মাছও ভালো পেতাম না।

বাজুয়া গ্রামের চাষী মুরারী মোহন থান্দার জানায়, আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাছ চাষ সম্পর্কে অনেক ধারণা হয়েছে। আশা করি এভাবে চাষ করলে মাছ ভালো পাবো।

মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ সেবা সহজিকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বাজুয়া ইউপি চেয়ারম্যান রঘুনাথ রায় বলেন, এমন আধুনিক প্রশিক্ষণ দিলে মাছ চাষে সফল হবে চাষীরা। তিনি আরোও বলেন, এ পদ্ধতিতে চাষ করলে দেশের আর্থিক অবস্থা পালটানো সম্ভাব। এতে চাষীরাও লাভবান হবে। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, চাষীরা এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাছ চাষ করে উপকৃত হচ্ছে, সে জন্য আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। এ কার্যক্রম দেখে অনেকের নজর কেড়েছে। তিনি আরও জানান, আগামীতে এ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের খেজুরিয়ায় ইনোভেশন ইন’র কার্যক্রম হবে।

This post has already been read 2267 times!

Check Also

মৎস্য অ‌ধিদপ্ত‌র ডিজি’র সাথে স্কয়ার এগ্রোভেট প্রতিনিধিবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এগ্রিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: মৎস্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্কয়ার …