১০ আষাঢ় ১৪২৮, ২৩ জুন ২০২১, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪২
শিরোনাম :

প্রথাগত নয়, নিজেকে ‘স্মার্ট ভেট’ হিসেবে তৈরি করা দরকার

Published at জানুয়ারি ৭, ২০২১

ভেটেরিনারি পেশাজীবিদের সামনে এখন নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জ। জলবায়ুর পরিবর্তন, বিশ্বব্যাপী রোগজীবাণুর সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং সেই সাথে কিছু মানুষের অজ্ঞানতাবশত: দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে শুধু প্রাণিকূলই নয় বরং জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

একদিকে প্রাণিসম্পদ রক্ষার চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি প্রতিরোধ করার মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ভেটেরিনারি পেশাজীবিদের দায়িত্বও কোন অংশে কম নয়। তাই দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারঙ্গমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথাগত ভেট নয় বরং নিজেকে ‘স্মার্ট ভেট’ হিসেবে তৈরি করা দরকার।

মূলত: সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ভেটেরিনারি পেশাজীবিদের দক্ষতা উন্নয়নে গত ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালাটিতে মোট ১৮জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ১০জন এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮জন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

পোল্ট্রি খামারের জীবনিরাপত্তা, ভ্যাকসিনেশন এবং এন্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার বিষয়ে শুধু আলোচনাই নয় বরং তা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের ডামি ডেমনস্ট্রেশনও অনুষ্ঠিত হয়েছে কর্মশালাটিতে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে একটি পোল্ট্রি খামারও পরিদর্শন করেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

কর্মশালায় জানানো হয় যে, ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজের পাশাপাশি ভাইরাল ডিজিজের জন্যও অনেকে না বুঝেই গড়পড়তাভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। এমনকি সুনির্দিষ্ট রোগের জন্য সুনির্দিষ্ট ড্রাগ থাকার পরও অনেকেই ‘ওয়াচ গ্রুপ’ এমনকি ‘রিজার্ভ গ্রুপের’ এন্টিবায়োটিকও ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ আছে। যার কারণে এন্টিবায়োটিকের পাশাপাশি এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সেরও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রিসোর্স পারসনগণ বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই সর্বোত্তম পন্থাটি হচ্ছে খামারে জীবনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তবে রোগের সংক্রমণ ঘটলে তা নিরাময়ে ‘একসেস গ্রুপের ড্রাগ’ ব্যবহার করাই সঠিক সিদ্ধান্ত। ‘ওয়াচ গ্রুপের ড্রাগ’ ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার এবং ‘রিজার্ভ গ্রুপের ড্রাগ’ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন রিসোর্স পারসনগণ। তাঁরা বলেন, ‘রিজার্ভ গ্রুপ’ হচ্ছে মানুষকে বাঁচানোর সবশেষ চিকিৎসা। এ গ্রুপের ড্রাগ দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ব্যবহার করা হলে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হবে। আর সেটি হলে মানুষের জীবন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

পোল্ট্রি খামারে কর্মরত ভেট’দের সুবিধার্থে প্রশিক্ষার্ণীদের মাঝে বাংলাদেশ এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেসপন্স অ্যালায়েন্স (বারা) কর্তৃক প্রণীত “প্রিভেনশন, কন্ট্রোল এন্ড ট্রিটমেন্ট অব ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজেস ইন পোল্ট্রি” (বারা মুরগি) গাইডলাইন বিতরণ করা হয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাজী ফার্মসের রিজিওনাল ম্যানেজার ডা. খালেদ মাহমুদ; আফতাব হ্যাচারি লি. এর সিনিয়র অফিসার (প্রোডাকশন) ডা. মুহাম্মদ হাসান হাফিজুর রহমান, নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারির সিনিয়র কাস্টমার সার্ভিস অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান; প্লানেট এগ্রো’র হেড অব টেকনিক্যাল সার্ভিস ডা. শফিকুল ইসলাম; সিপি বাংলাদেশের সিনিয়র টেকনিক্যাল সার্ভিস অফিসার ডা. মো. লিপন তালুকদার; প্যারাগন পোল্ট্রি’র টেকনিক্যাল সার্ভিস অফিসার ডা. রানা সরকার; কোয়ালিটি ফিডস্ -এর এমই.ও-ডিভিএম ডা. মো. শামীম হোসেন; আরআরপি এগ্রো’র ফার্ম ভেটেরিনারিয়ান ডা. মো. হৃদয় রহমান; বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জি এম আবদুল কুদ্দুস; লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল আজিজ প্রধান; মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল শামীম; ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস) ডা. লায়লা ইয়াসমিন; গাজীপুরের কালিয়াকৈরের উপজেলার ভিএস ডা. মো. জহুরুল ইসলাম; কক্সবাজার কুতুবদিয়ার উপজেলার ভিএস ডা. লেলিন দে; নওগাঁ সদর উপজেলার ভিএস ডা. মো. রায়হান নবী; ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভিএস ডা. মো. মিরাজ হোসেন; খাগড়াছড়ির লাখিছড়ি উপজেলার ভিএস ডা. সুপর্ণা দে; এবং নীলফামারির ডিমলা উপজেলার ভিএস ডা. সাইদুর রহমান।

রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও -এর সিনিয়র টেকনিক্যাল এডভাইজার ড. কামরুন নাহার; ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এডভাইজার (ওয়ানহেল্থ ট্রেনিং এন্ড আউটরীচ) ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এবং ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এডভাইজার রাহাত আরা করিম। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (খামার) ড. এবিএম খালেদুজ্জামান এবং বিপিআইসিসি’র যোগাযোগ ও মিডিয়া উপদেষ্টা মো. সাজ্জাদ হোসেন।

This post has already been read 1451 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN