১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২৪ রবিউস-সানি ১৪৪৩
শিরোনাম :
https://mailtrack.io/trace/link/f26343803e1af754c1dd788cd7a73c22043d5987?url=https%3A%2F%2Finnovad-global.com%2Flumance&userId=1904341&signature=5e74e7dc17531970

উত্তরাঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান চাষ, দেশে আর কোন দিন মঙ্গা ফিরে আসবে না -কৃষিমন্ত্রী

Published at অক্টোবর ১, ২০২১

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে দেশ থেকে মঙ্গা দেশ থেকে দূর হয়েছে। মানুষ মঙ্গার কথা ভুলে গেছে। এ অবস্থায়, আমাদের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত আগাম জাতের আমন ধানের চাষ রংপুর, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করতে পারলে দেশে ভবিষ্যতে আর কোন দিন মঙ্গা ফিরে আসবে না। এ জাতগুলো ভবিষ্যতে যাতে মঙ্গা ফিরে না আসতে পারে সে ব্যাপারে গ্যারান্টি দিবে।

আজ শুক্রবার (০১ অক্টোবর) বিকালে রংপুরের তারাগঞ্জে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) আয়োজিত বিনা-১৬ ও বিনা-১৭ জাতের ধানের নমুনা কর্তন ও মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ঢাকায় তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন।

ড. রাজ্জাক বলেন, বছরের এই সময়ে আশ্বিন- কার্তিক মাস আসলেই আগে উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা বা আধা দুর্ভিক্ষ দেখা দিতো। বেশিরভাগ মানুষের ঘরে খাবার থাকতো না। আমন ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত খাবার জুটত না। তিনি বলেন, এখনও সারা দেশে আমনের ফসল আসতে যেখানে ১-২ মাস সময় লাগবে, সেখানে এই মুহূর্তে আমন ধান পেকেছে। বিনার উদ্ভাবিত এ জাতগুলোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে উৎপাদন ভাল, অন্যদিকে ১০০ দিনের মধ্যে পাকে। এ ধান কেটে আলু, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল করা যাবে।

মন্ত্রী এ জাতগুলোকে দ্রুত কৃষকের কাছে ছড়িয়ে দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। বলেন, ফসলের নতুন বিন্যাসকে দ্রুত কাজে লাগাতে হবে।  এ উন্নত আগাম জাতগুলো চাষ করলে মানুষের ঘরে আশ্বিন- কার্তিক মাসেও খাবার থাকবে।

অনুষ্ঠানস্থল রংপুরের তারাগঞ্জে মাঠ দিবসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, বিনার ডিজি মির্জা মো: মোফাজ্জল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিনা-১৬ ও বিনা-১৭ ধানের জাত হলো বিনা উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের জন্য উচ্চফলনশীল ও স্বল্প জীবনকালের। বিনার মতে, বিনাধান-১৬ এর জীবনকাল মাত্র ৯৫-১০০ দিন এবং গড় ফলন বিঘা প্রতি ২৪ মণ। বিনাধান-১৭ এর জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন এবং গড় ফলন বিঘা প্রতি ২৭ মণ। এ জাতগুলোর জীবনকাল কম হওয়ায় পানি ও অন্যান্য উপকরণ খরচ কম লাগে। বিনাধান-১৭ জাতে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ কম প্রয়োজন হয় ও ৫০% কম সেচ দিতে হয়।

অতীতে আমন ধানের জীবনকাল ছিল ১৬০-১৭০ দিন এবং ফলন ছিল বিঘা প্রতি মাত্র ৪-৫ মণ। সে তুলনায়, এই জাতগুলোর জীবনকাল প্রায় ৫০-৬০ দিন কম হওয়ায় আশ্বিন মাসে বিনা’র আমনের জাত পেকে যায় । ফলে, অগ্রিম ফসল ঘরে ওঠায় মঙ্গার সময় প্রান্তিক কৃষকের খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাছাড়া, আগের জাতগুলোর জীবনকাল বেশি হওয়ায় উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা বছরে দু’টির বেশি ফসল চাষ করতে পারত না। এখন আমন কাটার পর এই অঞ্চলের কৃষকরা সহজেই একবার বা দুইবার আলু চাষ করে থাকে। নতুন শস্য বিন্যাসে আগাম আমন- সরিষা- বোরো  বা আগাম আমন- আলু ২ বার- আউশ চাষ করা যাচ্ছে। এতে শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি পেয়ে বছরে ৩-৪টি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলে দুইবার আলু চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আগাম আলুতে কৃষক অধিক লাভবান হয়ে থাকে।

This post has already been read 220 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN