
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ডেইরি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ দেখতে প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। পরিদর্শনকালে তিনি প্যারাগন ডেইরির গবাদিপশু পালন, দুধ উৎপাদন এবং পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন।
প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনের বিষয়টি তুলে ধরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, গাভীর কাছ থেকে বেশি দুধ পেতে উন্নত পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। প্যারাগন ডেইরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন ও ভুট্টাসহ মানসম্মত খাদ্য উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত পুষ্টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা গাভীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
দূতাবাসের পোস্টে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করে দেখেছেন কীভাবে আমেরিকান জেনেটিক্স ও উন্নতমানের পশুখাদ্য উপকরণ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

ডেইরি খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উন্নত জেনেটিক্সের পাশাপাশি সুষম ও মানসম্মত পুষ্টি নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান। তাঁর মতে, গবাদিপশুর উৎপাদনক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে ভালো জাতের সঙ্গে উপযুক্ত পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মানসম্মত খাদ্য উপকরণের ব্যবহার খামারের উৎপাদন ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে দুধের চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও উৎপাদন ব্যয়, গবাদিপশুর জাত, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং খামার পরিচালনার দক্ষতা—সব মিলিয়ে ডেইরি খাত এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে উন্নত জেনেটিক্সের গাভী পালনের পাশাপাশি তাদের চাহিদা অনুযায়ী সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা হলে দুধ উৎপাদনে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্যারাগন ডেইরি ফার্মে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শন তাই বাংলাদেশের ডেইরি শিল্পে আধুনিক জেনেটিক্স ও উন্নতমানের ফিড উপকরণের সম্ভাব্য ভূমিকার পাশাপাশি দুই দেশের কৃষি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন ও ভুট্টার মতো কৃষিপণ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও ফিড শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে দেশের খামারিদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্যও বাংলাদেশের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্যারাগন ডেইরিতে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের পরিদর্শনকে সেই সম্ভাবনারই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত জেনেটিক্স, মানসম্মত পুষ্টি ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে বাংলাদেশের ডেইরি খাত আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই হয়ে উঠতে পারে—এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে এই সফরকে ঘিরে।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের কৃষি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই জায়গা থেকেই প্যারাগন ডেইরি ফার্মে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



